সন্ধ্যা নদীর করাল গ্রাসে হঠাৎ দেবে গেল পল্টুনসহ ৭টি দোকানঘর

প্রকাশিত: ২:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৯

বরিশালের উজিরপুরে রাক্ষুসে সন্ধ্যা নদীর করাল গ্রাসে হঠাৎ বিলীন হয়ে গেল লস্করপুর বাজারের পল্টুন, ৭টি দোকানঘরসহ ২টি ট্রলার। সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয়রা জানান, কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই উপজেলার বড়াকোঠা ইউনিয়নের লস্করপুর বাজারের রফিক সরদারের পাকা দোকানঘর, তুহীন হাওলাদারের চায়ের দোকান, মিজান হাওলাদার, আফজাল হাওলাদার, ইসমাইল খলিফা, জামাল হাওলাদার, করিম হাওলাদার, শাহে আলম এর মালামালসহ মুদি দোকান মুহুর্তের মধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এ সময় ঘাটে বাঁধা সুমন খলিফার ২টি ট্রলার তলিয়ে যায় এবং বিআইডব্লিউটিএ’র পল্টুনটি তাৎক্ষণিক তলিয়ে গেলেও ডুবুরিদের সহযোগিতায় কিনারে তুলতে সক্ষম হয়। বাজার সংলগ্ন সিদ্দিক সরদারের অর্ধ লক্ষাধিক টাকার পুকুরের মাছ ভেসে যায়।

ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় লস্করপুর গ্রামের খলিফা বাড়ির শহিদ, হাফিজ, রুহুল আমিন, নান্না, মোস্তফা, জাহাঙ্গীর, দুলাল, রব, লালু, সালাম, কালাম, সুলতান, রাজ্জাক খলিফার বসতঘরসহ ভিটামাটি এবং সিকদার বাড়ির শাহে আলম, লিটন, হারুন, সেন্টু, বক্কার, জলিল, ইউনুস, রহিম ও আকন বাড়ির শাহজাহান, মজিদ, মন্টু, মুনসুর, মাসুমসহ অসংখ্য বাড়িঘরসহ ভিটামাটি হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা।

এ ব্যাপারে লস্করপুর বাজারের ক্ষতিগ্রস্থ ভাঙ্গন কবলিত ব্যবসায়ী মিজান হাওলাদার, তুহিন হাওলাদার, আফজাল, ইসমাইল খলিফা জানান, হঠাৎ করে মালামালসহ আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আমরা বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমাদের ব্যবসা করার মত আর কোন পুঁজি নেই, কি করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাবো ভেবে পাচ্ছি না।এ ছাড়া সন্ধ্যানদীর করাল গ্রাসে অব্যাহত ভাঙ্গনের শিকার আশোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার, কমলাপুর, শিকারপুর বন্দর, দাসেরহাট, হানুয়া, চথলবাড়ি, মালিকান্দা, মীরেরহাটসহ দুই শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর, পানের বরজ, মাছের ঘের হারিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছে।