সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা করে জীবন ঝুঁকিতে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের ম্যানেজার

প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যাত্রীবাহী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজারের উপর হামলা ও প্রায় আড়াই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করে বিপাকে পড়েছেন বাদী।

মামলা দায়েরের পর থেকেই হামলাকারী সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা ও তার অনুগত বাহিনীর হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাকে।

এমন অভিযোগ তুলে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং মামলার আসামি হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন হামলার শিকার গোল্ডেন লাইন পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম। এসময় অভিযুক্ত লিটন মোল্লার চাঁদাবাজির ফিরিস্তি তুলে ধরেন তিনি।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থিত বরিশাল-ঢাকাসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার হিসেবে গত ৬ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করছি।

দায়িত্ব পালনকালে কাশিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন লিটন মোল্লা টার্মিনালে কাউন্টার রাখতে হলে তাকে প্রতিমাসে সম্মানীর নামে ২৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে বলে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি এবং হুমকি দেন।

শহিদুল ইসলাম আরও জানান, ‘বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে লিটন মোল্লাকে প্রতিমাসে তার দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করছি। কিন্তু ৩ মাস পূর্বে প্রাণঘাতী করোনাকালে সরকারি নির্দেশে সকল ধরনের যাত্রী পরিবহন বন্ধ ছিল। এই সময়ে চাঁদার টাকা পরিশোধ না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন লিটন মোল্লা। বেশ কয়েকদিন ধরে টাকার জন্য বাসায় ডেকে নিয়ে গালিগালাজ এবং ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছিলেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই বুধবার আনুমানিক রাত ১২টার দিকে কাউন্টার বন্ধ করে টার্মিনালের পিছনের রাস্তা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে লিটন মোল্লার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য রনি মৃধা, মো. রুবেল, মো. তারেক, মো. নাসির, মো. সোহাগ, মাসুম, সুজন, জলিল, মাসুদ, ইউনুসসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা মক্কা-মদিনা হোটেলের সামনে শহিদুলের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা তাকে বেধম মারধর করে সাথে থাকা দুই লক্ষ ৪৩ হাজার ৯শত টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ করেন শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মারধরের সময় চিৎকার শুনে বাস টার্মিনাল এলাকায় দায়িত্বরত এয়ারপোর্ট থানার এএসআই রুহুল আমিনসহ একদল পুলিশ সদস্য আমাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।

এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় উল্লিখিতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এর পর থেকেই লিটন মোল্লা এবং তার সহযোগীরা নানাভাবে তাকে জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি জীবন শঙ্কায় আছেন এমন দাবি করে প্রশাসনের সহযোগিতা এবং সন্ত্রাসীদের বিচার দাবি জানান শহিদুল ইসলাম।

এদিকে লিটন মোল্লার চাঁদাবাজি বন্ধ ও পরিবহন স্টাফদের নিরাপত্তার বিষয়ে ইতিপূর্বে গোল্ডেন লাইনের স্বত্বাধিকারী মো. ওয়াহিদ মিয়া কেন্দ্রীয় বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের নিকট গত ১ মার্চ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন শহিদুল ইসলাম।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্রমিক নেতা মো. কালাম হোসেন লিটন মোল্লার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Sharing is caring!