সন্তানের মুখ দেখার আগেই করোনা উপসর্গ নিয়ে চলে গেলেন বরগুনার সংগীত শিল্পী

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০

তরিকুল ইসলাম রতন, বরগুনা প্রতিনিধি ॥ বরগুনার সদর উপজেলায় দেলোয়ার হোসেন পান্না নামের এক সংগীত শিল্পী করোনা উপসর্গ নিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। সন্তানের মুখ দেখার আগেই বরগুনার এই সংগীত শিল্পী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। জানা যায়, স্ত্রীর সন্তান হবার আগেই মারা যান পান্না।

স্ত্রীর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিলো আগামী ২২ জুন। সংগীত শিল্পী পান্নার এ অকাল মৃত্যুতে স্ত্রী তানিয়ার কান্নায় স্থানীয়রা কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। কিছুতেই নিজেকে নিজে বুঝ দিতে পারছেন না যে তার স্বামী কোন রোগে মারা গেলেন। ডাক্তার তার স্বামীকে করোনার নমুনা পরীাও করতে বলেছিলেন। পরীার একদিন আগেই করোনার উপসর্গ জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে এই সুন্দর দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন পান্না।

মঙ্গলবার আনুমানিক দুপুর ২ টায় বরগুনার সংগীত শিল্পী দেলোয়ার হোসেন পান্না মিয়া মারা যান। তার বাড়ী বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে কামড়াবাদ গ্রামে।

মৃত পান্নার মামা অ্যাডভোকেট এম.এ জলিল বলেন, গত সোমবার থেকেই আমার ভাগিনা পান্নার জ্বর ছিলো। এরই মধ্যে তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরে তাকে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক আব্দুস সালাম প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীা করাতে বলেন। মঙ্গলবার পান্নার করোনার নমুনা নেয়ার কথাও ছিল। তবে তার আগেই তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নিজ বাড়ীতে মারা যান। পান্নার মৃত্যুর পরে তার করোনার নমুনা সংগ্রহ করেছে বরগুনার স্বাস্থ্য বিভাগ। কবে রিপোর্ট পাওয়া যাবে তা পরিবারের কেউ জানেন না।

তিনি আরও বলেন, পান্না আমতলী উপজেলায় একটি ফুড কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর (পরিবেশক) ছিলেন। তার একটি মাত্র ছেলে সন্তান রয়েছে এবং এ মাসের ২২ তারিখে তার স্ত্রী তানিয়ার আর একটি সন্তান হবার কথাও রয়েছে। আগত সন্তানের মুখ না দেখেই চলে গেলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমরা সবাই মর্মাহত।

Sharing is caring!