সংস্কারের অপেক্ষায় পটুয়াখালীর ঐতিহাসিক মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ

প্রকাশিত: ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২১

জামাল আকন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন পটুয়াখালী জেলায় মির্জাগঞ্জে উপজেলার ঐতিহাসিক মজিদবাড়িয়া শাহী জামে মসজিদ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ৫০০ বছর আগে সুলতানী শাসন আমলে স্থাপিত হয় এ শাহী মসজিদটি। এই পুরাকীর্তিটি কাগজ-কলমে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও চরম অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হবার পথে। এ মসজিদের নামানুসারে এলাকার নাম হয়েছে মসজিদবাড়িয়া। পরে মজিদ নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান মসজিদবাড়িয়ার পরিবর্তে ইউনিয়নের নাম মজিদবাড়িয়া করেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মসজিদটি সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তার পরও ঐতিহাসিক এ মসজিদটি দেখতে প্রতিদিন শত শত নারী-পুরুষ আসেন।

পটুয়াখালী শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও বরগুনা জেলা শহর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্বে মসজিদবাড়িয়া মসজিদ অবস্থিত। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ইলিয়াছ শাহী বংশের এক স্বাধীন সুলতান রুকনুদ্দীন শাহ বাকলা দখল করে ১৪৬৫ সালে মির্জাগঞ্জ থানার মজিদবাড়িয়া গ্রামে এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করেন।

 

এ মসজিদই চন্দ্রদ্বীপের (বর্তমান বরিশাল বিভাগের) প্রথম ইটের নির্মিত কীর্তি আর উজিয়ল নামে এক মিস্ত্রি মসজিদটির নির্মাণকাজ করেন। মসজিদে তিনটি দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যখচিত মেহরাব। পূর্ব দিকে তিনটি খিলান পথ, ছয়টি আট কোণার মিনার ও সুদৃশ্য পিলার রয়েছে। একটি বারান্দাযুক্ত মসজিসটির পূর্ব-উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দু’টি করে জানালা রয়েছে। দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে দরজা-জানালা কপাট ও পিলারগুলোর অস্তিত্ব বিলীনের পথে। বিশাল এক গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি রড ও সিমেন্ট ছাড়াই চুন সুরকি ও পোড়ামাটির ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৭৫ ইঞ্চি পুরো।

আর মসজিদের ভেতরের দিকে রয়েছে বিভিন্ন কারুকার্যখচিত মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। মসজিদ-সংলগ্ন একটি বড় দিঘি রয়েছে। মুসল্লিরা এখানে ওজু ও গোসল করেন।

মসজিদ-সংশ্লিষ্ট শীলালিপি থেকে এর ইতিহাস জানা গেলেও বর্তমানে শীলালিপিটি উধাও হয়ে গেছে। ১৮৬০ সালে কমিশনার মি. রেলির রিপোর্ট থেকে জানা যায়, কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি জাদুঘরে শীলালিপিটি সংরক্ষিত রয়েছে। মসজিদটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, মসজিদটি মাটির নিচ থেকে অলৌকিকভাবে গজিয়ে উঠেছে। দ্রুত সংস্কার করলে মসজিদটি আরো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ইসলামি স্থাপত্যশিল্প হিসেবে টিকে থাকবে বহুদিন।

এখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন পরগনার ইয়াকিন শাহ ও কালাশাহ। মসজিদের দক্ষিণ পূর্ব পাশেই রয়েছে তাদেরসহ আরও দুটি কবর। প্রতিবছর ৩০ কার্তিক বাৎসরিক মাহফিল আয়োজন করে এন্তেজামিয়া কমিটি। মাহফিলে দেশবরেণ্য বিভিন্ন আলেম-ওলামা ওয়াজ করেন। মসজিদটি বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে মসজিদের অনেক রূপ-সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে অবশিষ্ট সৌন্দর্যও হারিয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করৃছেন, দ্রুত সংস্কার করলে মসজিদটি আরো দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। বাংলাদেশে মুসলিম শাসনের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ইসলামি স্থাপত্যশিল্প হিসেবে টিকে থাকবে বহুদিন।