সংযোগ বিচ্ছিন্নের আবেদনের পরেও ৯৭ হাজার টাকা বিদ্যূৎ বিল 


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১
ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥
প্রয়োজন না থাকায় একটি গুদাম ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেন ঝালকাঠির ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন গাজী। তিনবারের আবেদনে সারা না দেয়ায় বাধ্য হয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিগ্যাল নেটিশ  করতে হয় ওই গ্রাহককে । লিগ্যাল নোটিশের পর টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। তিনমাস পরে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই তিন মাসে গুদাম ঘরে বিদ্যুৎ বিল করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৪২১ টাকা। গ্রাহক আনোয়ার হোসেন গাজীর প্রশ্ন, তিন মাস আগে স্বেচ্ছায় মিটার বন্ধ করে সংযোগ বিচ্ছিন্নের আবেদন করার পরে গুদামের বিদ্যুৎ বিল কিভাবে আসলো। এখন এই বিল কে পরিশোধ করবে? গ্রাহকের এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে ঝালকাঠির ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে জানা যায়, ঝালকাঠি লঞ্চঘাট, রকেটঘাট ও একটি গুদামঘর  সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেন শহরের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন গাজী। রকেট ঘাটের গুদামঘরটি মালামাল রাখার জন্য ব্যবহার করার নির্দেশনা রয়েছে। গুদামঘরের জন্য মিটার ও বিদ্যুৎ সংযোগও নেন ইজারাদার। গুদামঘরটি ব্যবহার না হওয়ায় তিনি গত ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর বকেয়া বিল পরিশোধ করে সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিমের কাছে আবেদন করেন। আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেওয়া হয় গ্রাহককে। আবেদনের একমাস অতিবাহিত হলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। ২ ডিসেম্বর  ও ১০ ডিসেম্বর দুই দফায় আবারো সংযোগ বিচ্ছিন্নের দাবি জানিয়ে আবেদন করেন তিনি।  এরপরেও অজ্ঞাত কারণে কর্তৃপক্ষ তাঁর সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেনি। বাধ্য হয়ে গ্রাহক ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে গত ৭  মার্চ আইনী নোটিশ পাঠান। আইনী নোটিশ পেয়ে ১২ মার্চ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে কর্তৃপক্ষ। তবে ডিসেম্বর  থেকে গুদামে তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল করা হয়  ৯৭ হাজার ৪২১ টাকা । বকেয়া পরিশোধ ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের আবেদনের পরেও কি করে এতো টাকা বিল আসলো গ্রহক তা জানতে চান কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এর কোন জবাব না দিয়ে বিল পরিশোধ করার তাগিদ দেন। গুদামের ইজারাদার আনোয়ার হোসেন গাজী এ বিষয়ে গত ২৪ মার্চ আবারো একটি আইনী নোটিশ পাঠান ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে। এখনো এর কোন জবাব দেননি নোটিশ গ্রহীতা ওজোপাডিকো। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইজারাদার আনোয়ার হোসেন গাজীর সঙ্গে পার্টনার হিসেবে কাজ করতেন পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল হক খলিফা। গুদামঘরের বিদ্যুৎ গ্রাহক বিধিঅনুযায়ী ইজারাদার আনোয়ার হোসেন গাজী। দুজনে মিলেই গুদামে অটোরিকশা চার্জের জন্য গ্যারেজ তৈরি করেন। দুজনের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে ব্যবসা থেকে আলাদা হয়ে যান তাঁরা। পরে প্রভাব বিস্তার করে আবদুল হক খলিফা গুদামঘরটি নিজের দখলে রাখেন। সেখানে তিনি অটোরিকশা চার্জের জন্য গ্যারেজ তৈরি করেন। প্রতিদিন ১৫/২০ টি অটো এখানে চার্জ দেয়া হতো । আনোয়ার হোসেন গাজী অভিযোগ করেন, আমি সংযোগ বিচ্ছিনের আবেদন করার পরেও গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অটোরিকশা চার্জের জন্য বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ৯৭ হাজার ৪২১ টাকা বিল করেন আমার নামে। অথচ ৫ মাস আগে থেকেই  গুদামঘর ব্যবহার করছি না । জোর করে গুদামের ভেতরে অটোরিকশা চার্জ দিয়েছেন আবদুল হক খলিফা। এখন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরেও পাশের একটি ঘরের মিটার দিয়ে সাইড সংযোগ নিয়ে হক খলিফা গুদামের ভেতরেই অটোরিকশা চার্জ দিয়ে আসছেন। ইজারাদার আনোয়ার হোসেন গাজী আরও অভিযোগ করেন, আমার ইজারা নেওয়া গুদাম আমি ব্যবহার করবো। কিন্তু জোর করে সেটি ব্যবহার করছেন হক খলিফা। এখানে অবৈধভাবে অটোরিকশা চার্জ দিচ্ছেন তিনি। অথচ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিল করছে আমার নামে। হক খলিফার দ্বারা আর্থিক সুবিধা নিয়ে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী ইচ্ছে করেই আমার নামে বিল করেছেন।  আমি এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলীকে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছি। তিনি এখনো কোন জবাব দেননি। আমার নামের বিলও প্রত্যাহার করেননি। আমার নামে তিন মাসের ভুয়া বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার করা না হলে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ ব্যাপারে আবদুল হক খলিফা বলেন, স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে আমরা দুইজনে একসঙ্গে ব্যবসা শুরু করি। সে ১৬ মাস গুদামঘরে অটোরিকশা চার্জ দিছে, আমাকে কোন হিসাব বুঝিয়ে দেয়নি। আমি ৫ মাস ধরে একাই কোন রকমের চালাচ্ছিলাম। কিন্তু সে আইনী নোটিশ করে সংযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি স্ট্যাম্পে লিখিত কাগজপত্র জমা দিয়ে নতুন সংযোগ এনে চালাচ্ছি। তাঁর নামে থাকা বকেয়া বিল এখনো সে দেয়নি। এখানে বিদ্যুৎ অফিস ও আমার কোন ত্রুটি নেই। ঝালকাঠির ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, সংযোগটি গুদামের ইজারাদার আনোয়ার হোসেনের নামে রয়েছে। তাই বিলও তাঁর নামেই করা হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ না করে সংযোগ বিচ্ছিন্নের আবেদন করেছিলেন। পরে তিনি বকেয়া পরিশোধ করে আইনী নোটিশ পাঠালে আমরা সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দিই। ওই গুদামে অটোরিকশা চার্জের জন্যই বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। তিনি আমাকে আরো একটি আইনী নোটিশ পাঠিয়েছেন, আমি তার জবাব দেওয়ার জন্য এক আইনজীবীকে দায়িত্ব দিয়েছি।