সংবাদ সম্মেলন : তালতলীর রাখাইনদের জমি অর্থের বিনিময়ে বিক্রির অনুমতি ইউএনও’র


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২০

মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার, আমতলী প্রতিনিধি ::

রাখাইনদের বিরোধীয় জমি অর্থের বিনিময়ে তালতলীর ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই বিরোধীয় জমির দখল নিয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। রবিবার আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত আলমগীর হোসেন ও তার ছেলে মোঃ রাসেল মিয়া এমন অভিযোগ এনে ইউএনও’র বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

জানাগেছে, ২০১৫ সালে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া মৌজার ৯৬ নং খতিয়ানের ৯৩,৯৪,৯৫ ও ১০৬ নং দাগের ৪ একর জমি মোঃ আলমগীর হোসেন বিনা রেজিস্ট্রী স্ট্যাম্পে সাব-কবলা হিসেবে উতেনওয়েনের কাছ থেকে ক্রয় করেন। ওই সময় বিক্রির অনুমতি না থাকায় রেজিস্ট্রি করতে পারেননি আলমগীর। গত ৫ বছর ধরে ওই জমিতে আলমগীর হোসেন বাড়ী-ঘর নির্মাণ শেষে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু এ বছর জুন মাসে নাজমুল হাসান চুন্নু তার ক্রয়কৃত জমি দাবী করে উপজেলা চেয়ারম্য্যান মোঃ রেজবি-উল-কবির জোমাদ্দার ও ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামানের কাছে অভিযোগ দেন।

কিন্তু নাজমুল হাসান চুন্নু উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে তার জমির স্ব-পক্ষে তেমন প্রমাণ দেখাতে পারেননি। গত ১৫ জুলাই বরগুনা জেলা যুগ্ম জজ ২য় আদালতে চিরন্তন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা দায়ের করেন চুন্নু। আদালত মামলাটি শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। কিন্তু নাজমুল হাসান চুন্নু শুনানীতে অংশ না নিয়ে সময়ের আবেদন করেন। এদিকে মাথানচিং গোপনে ওই জমি বিক্রির অনুমতি চেয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকটে আবেদন করেন। খবর পেয়ে আলমগীর হোসেন ইউএনও কাছে এ জমি তার দাবী করে পাল্টা অভিযোগ দেন।

ইউএনও উভয় পক্ষকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুনানীতে অংশগ্রহণের জন্য নোটিশ দেন। উভয় পক্ষ শুনানীতে অংশগ্রহণের জন্য হাজির হন। কিন্তু ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান অজ্ঞাত কারণে শুনানী না করে ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় শুনানীর জন্য দিন ধার্য করেন।

এদিকে ইউএনও শুনানীর নাটক করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গত ১ সেপ্টেম্বর মাথানচিংকে জমি বিক্রির অনুমতি দেন- এমন অভিযোগ আলমগীর হোসেনের। জমি বিক্রির অনুমতি দেয়ার খবর পেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর আলমগীর হোসেন জমি বিক্রি অনুমতি বাতিল চেয়ে ইউএনও কাছে আবেদন করেন। ইউএনও ওই আবেদন গ্রহণ করে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। অপরদিকে মাথানচিং জমি বিক্রির অনুমতি পেয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আমতলী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল দিতে আসেন। খবর পেয়ে আলমগীর হোসেন সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে দলিল না করতে আবেদন করেন।

ওই দিন মাথানচিং দলিল দিতে পারেননি। পরে ২২ সেপ্টেম্বর তিনি তার সমুদয় জমি নাজমুল হাসান চুন্নুর কাছে দলিল মূলে সাব-কবলা দেয়। আলমগীর অভিযোগ করেন ইউএনও মোটা অংকের টাকা খেয়ে মাথানচিংকে জমি বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন। এতে এই বিরোধীয় জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। ওই জমি বিক্রির অনুমতি ও দলিল বাতিল করে আমার নামে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার দাবী জানাই।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের অফিসে আসতে বলেন।