সংকটে বরিশাল বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০
ফাইল ছবি

শফিক মুন্সি ॥ উদ্বোধন করার দুই দিনের মধ্যে বিতর্কের মুখে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বরিশাল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। গত ১৫ মার্চ বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানের নির্দেশে মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়। এর আগে করোনাভাইরাস আতংকের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রিজের নামে বাণিজ্য মেলার অনুমোদন আনা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন মেলার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন স্টল (দোকান) নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সংকটে। তাদের মালামাল নষ্ট হয়ে যাবার সাথে সাথে মূলধন খরচ হয়ে যাবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এসব ব্যাপারে মেলার আয়োজক, পরিচালন কমিটি কিংবা স্থানীয় প্রশাসন কোনো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে এমন আয়োজন ঠেকাতে বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন না করার পক্ষে ছিলেন স্থানীয়রা। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গত ১৩ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে নগরীর বান্দ রোডস্থ বিআইডব্লিউটিএ’র মেরিন ওয়ার্কসপ মাঠে বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করেন আয়োজকরা। এতে নগরীতে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ ক্ষুব্ধ হন। দীর্ঘ ৪ মাস যাবত মেলায় অংশগ্রহণকারী বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য অবিক্রিত অবস্থায় সেখানেই রেখেছেন। মেলা শুরু না হবার কারণে তারা পড়েছেন নানাবিধ সমস্যায়।

মেলায় অংশগ্রহণকারী কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সেখানে প্রায় ৭০ জন ক্ষুদে ব্যবসায়ী স্বল্প পুঁজি নিয়ে দোকান (স্টল) ভাড়া নিয়েছিলেন। তাদের অনেকের পণ্য এতদিন সেখানে রাখার কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অনেকে ব্যবসা পরিচালনা না করতে পেরে উপার্জন বন্ধ হয়ে বর্তমানে পুঁজি হারানোর ভয়ে আছেন। কিন্তু তাদের এসব সমস্যা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই আয়োজক কিংবা মেলা বন্ধ করা প্রশাসনের।

এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন জানালেন, বরিশালের স্থানীয় প্রশাসন এখন সকল দোকানপাট ও বিপণী বিতান খোলা রাখার ব্যাপারে নীরব সম্মতি দিয়েছেন। কিন্তু বাণিজ্য মেলার কার্যক্রম বন্ধ করে রেখেছেন যা মানবিক কিংবা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। তিনি বলেন, ‘মেলার আয়োজকদের মাধ্যমে সকলের সামাজিক দূরত্ব ও করোনা প্রতিরোধক স্বাস্থ্য নীতি অনুসরণ নিশ্চিত করে পুনরায় মেলা চালু করা কিংবা আমরা যারা মেলায় অংশগ্রহণ করে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে’।

এ ব্যাপারে মেলার আয়োজক বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, মেলায় অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যবসায়ী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি। যদি ব্যবসায়ীরা তাদের সমস্যার কথা এবং সেটা উত্তরণে সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে তাদের কাছে লিখিত দেন তবে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করবে মেলার আয়োজক কমিটি।

অন্যদিকে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য মোঃ আরিফুর রহমান বাপ্পি জানান, বর্তমানে দেশের ৩০ টি বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েও করোনা ভাইরাসের প্রাদুুর্ভাব রুখতে স্থগিত অবস্থায় আছে। এসব মেলায় অংশগ্রহণ করা ব্যবসায়ীরাও বর্তমানে সংকটে আছেন। এই সংকট উত্তরণে দ্রুতই যথাযথ কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেই আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আর বরিশাল জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে এমন আয়োজন রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নির্দেশ উপেক্ষা করে বরিশালে বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রাণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর মেলা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী নির্দেশনাও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ই দেবে।