শ্রেণীকক্ষে পাঠদান শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ আগামী ফেব্রুয়ারিতে খুলে যাবে স্কুল – কলেজ। এমন সম্ভাবনা সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। অধিদপ্তর থেকে ইতোমধ্যে চিঠি দেয়া হয়েছে জেলা পর্যায়ে। চিঠিতে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কিভাবে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান শুরু করা যায় সে ব্যাপারে নির্দিষ্ট গাইডলাইন তুলে ধরা হয়েছে। এসব গাইডলাইন মেনে অচিরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মুখরিত হবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে। ভাঙবে প্রায় ১১ মাসের অচলায়তন। তবে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোর ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায় নি।

 

বরিশালের শিক্ষা অধিদপ্তর কার্যালয়, শিক্ষা বোর্ড এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মার্চ থেকে বন্ধ সকল স্কুল – কলেজ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করেছে। এই গাইডলাইন অনুযায়ী খোলার প্রথম দুই মাসে আনুষ্ঠানিক কোন পরীক্ষা নেয়া হবে না। এছাড়া প্রতি ক্লাসে একসাথে সর্বোচ্চ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করতে বলা হয়েছে। আর প্রতিবার পাঠদানের পূর্বে শ্রেণীকক্ষ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিচ্ছন্ন করা এবং সকল শিক্ষক – শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীদের চাপে না রেখে বরঞ্চ সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোতে জোর দেবার সুপারিশ করা হয়েছে মাউশির গাইডলাইনে। এজন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে প্রতিষ্ঠানগুলো। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রথম পর্যায়ে শুধুমাত্র মাধ্যমিক (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

 

বরিশাল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তারা। সেখানে ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে তাদের। এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে শ্রেণীকক্ষ পরিষ্কার – পরিচ্ছন্ন করা, শিক্ষার্থীরা যেন কমপক্ষে পাঁচ ফিট দূরত্বে বসতে পারে সে ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষক – শিক্ষার্থীরা যেন করোনা প্রতিরোধী ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে সে ব্যাপারে পরিকল্পনা নেয়া। এদিকে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস জানান, আগামী জুনে এসএসসি এবং জুলাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। আর ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার কথাও চিন্তা করেছিলেন তিনি। সেজন্য এনসিটিবি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করেছে। যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে।

 

আর আগামী মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিয়ে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ড.অমিতাভ সরকার বলেন, ‘দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলা জুড়ে মাউশি’র স্থানীয় কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে কাজ করছেন। প্রতিটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। শ্রেণীকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়া শুরু হলে যেন কোনরকম সমস্যা না সৃষ্টি হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’। তবে বিভাগের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো শ্রেণীকক্ষে পাঠদান শুরুর ব্যাপারে এখনো উদ্যোগী হয় নি বলে জানা গেছে।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.মোঃ ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ করছি। তবে ক্লাস কার্যক্রম শুরু করার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি’। আর স্নাতক পর্যায়ে পরীক্ষা শুরু হলেও কবে নাগাদ ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেন নি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয় পরিচালক ড. অলক সাহা।