শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যাবার পথে অটোরিকশা কেড়ে নিল ছাত্রলীগকর্মীর প্রাণ

প্রকাশিত: ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০২০

ঝালকাঠি প্রতিনিধি \

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি ছিল অগাধ ভালবাসা। পড়ালেখার পাশাপাশি তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন সুমন হালদার (২৩)। ইচ্ছা ছিল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে একটি ভাল পদ পাওয়া। কিন্তু তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণ হল না। ঝালকাঠিতে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সদর উপজেলার নেহালপুর এলাকায় অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন হালদার সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের খোর্দ্দবরহার গ্রামের সুভাষ হালদারের ছেলে। তিনি বরিশাল বিএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সের ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যোগদিতে গ্রামের বাড়ি থেকে ভাড়ায় চালিত একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তিনি শহরে আসছিলেন। নেহালপুর ব্রীজের ওপরে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সাথে সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের চালকসহ তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমন হালদারকে মৃত ঘোষণা করেন। মোটরসাইকেল চালক মো. মান্না (৩০) গুরুতর আহত হয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন নিহতের স্বজনরা। তাদের কান্নায় হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। লাশের পাশে বাবা মায়ের বিলাপ দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি সুমনের রাজনৈতিক সহকর্মীরা। হাসপাতালে ছুটে যান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আল আমিন। নিহত সুমন হালদার ঝালকাঠি সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য।

সুমনের বাবা সুভাষ হালদার বলেন, আমার ছেলে বঙ্গবন্ধু প্রেমী ছিল। সে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন করেছে। বিএম কলেজে পড়ার পাশাপাশি তাঁর ইচ্ছে ছিল ছাত্রলীগের সদর উপজেলা কমিটির একটি পদে যাওয়ার। এ জন্য ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সবধরণের অনুষ্ঠানে সে গ্রাম থেকে শহরে আসতো। শোক দিবসের অনুষ্ঠানের কথা শুনে বাড়িতে আর মন বসেনি সুমনের। মোটরসাইকেল ভাড়া করে সে অনুষ্ঠানের জন্য রওয়ানা হয়। আমার বাবার আর অনুষ্ঠানে যাওয়া হয়নি।

ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, সুমন একজন মেধাবী ছাত্রনেতা। তাকে আমরা সদর উপজেলার কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার চিন্তা করেছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর এই মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমাদের নেতা আমির হোসেন আমু এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁর পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে।

ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, পুলিশ ঘাতক অটোরিকশাটি আটক করলেও চালক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!