শৈলকুপায় সংখ্যালঘু পরিবার নিরাপত্তাহীন : মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ পুলিশের

প্রকাশিত: ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় চাঁদার দাবিতে একটি সংখ্যালঘু পরিবারকে নিরাপত্তাহীন করে তুলেছে নামধারী দুই সাংবাদিক। ভুক্তভোগী পরিবার শৈলকুপা থানায় মঙ্গলবার তথ্য উপাত্তসহ এজাহার জমা দিলেও অজ্ঞাত কারনে মামলা রজু হয় নাই। ফলে প্রভাবশালীদের দাপটে ক্রমেই পরিবারটি জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ওসি) মহসীন হোসেন জানান, শৈলকুপার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা সাগর শর্মা দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শৈলকুপা মধ্যপাড়ার বাসিন্দা বিপুল শর্মার ছেলে সাগর শর্মা পেশায় একজন ডিপ্লোমা দন্ত চিকিৎসক। গত ৩১ জুলাই আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টায় কবিরপুর শামীম হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার অফিস রুমে প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে মোঃ মুছা ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ভুয়া ডাক্তার সাজিয়ে পত্রিকায় নিউজ করা হবে। পরে ১লা আগষ্ট আনুমানিক রাত ১০টার দিকে সাগর শর্মার বন্ধু শিমুল হোসেনের মাধ্যমে মোবাইলে নানা অশালীন গালিগালাজ, র‌্যাব-পুলিশের ভয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিয়ে মোবাইল কোর্ট করে জেল খাটাবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরে দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। উক্ত সাংবাদিক মুছা বরিশাল রেঞ্জের উচ্চপদস্থ একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে খুটির জোর হিসেবে ব্যবহার করায় ভুক্তভোগী পরিবারটি ক্রমেই ভীত হয়ে পড়েছে বলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানিয়েছে।
সাগরের পিতা বিপুল শর্মার অভিযোগ, তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি সাধারণ পরিবারের ব্যবসায়ী। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও ব্যবসায়ীক সুনাম নষ্ট করতে শামীম ক্লিনিকের মালিক কথিত সাংবাদিক শাহীন আক্তার পলাশ ও মোঃ মুছা তাদের অফিসে নিয়ে কৌশলে ভয়ভীতি দেখিয়ে হিন্দু মালোয়ানের বাচ্চা আখ্যা দিয়ে চাঁদা আদায়ে নানা দুর্ব্যবহার করেছে।
সাগর শর্মার কাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শাখা কর্মকর্তা রবি শর্মা জানান, অযৌক্তিক ও অবৈধভাবে শৈলকুপায় কর্মরত দুজন নামধারি চাঁদাবাজ সাংবাদিক তার ভাতিজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করায় তারা হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের নেতাদের বিষয়টি অবগত করেছেন। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কুরুচিপূর্ণ, অশালীন মোবাইল রেকর্ড যথাযথ প্রশাসনকে সরবরাহ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় মামলা রুজু না হওয়ায় ক্রমেই প্রভাবশালীদের চাপে পড়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
শৈলকুপার সুধি মহল সূত্রে জানা যায়, উক্ত মুছা সাংবাদিক এর আগেও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, গুনী সূধিজনদের নিকট রাতের আঁধারে কুরুচিপূর্ণ গালিগালাজসহ বড়-বড় কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনা নতুন নয়।
শৈলকুপা পৌর সভার মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি কাজী আশরাফুল আজম জানান, সম্প্রতি স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া চাঁদাবাজীর অডিও ক্লীপটি অবশ্যই নিন্দনীয় যা শুধু সংখ্যালঘু নয় যে কোন ব্যবসায়ীর জন্য হুমকি স্বরুপ বিষয়টি পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ নিবে।

Sharing is caring!