শেবাচিমে সপ্তাহব্যাপী সুপেয় পানির অভাব

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

গত সপ্তাহের রোববার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শেবাচিম) তীব্র পানির সংকট। যে কারণে এক প্রকার মানবেতর দিনযাপন করছেন সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা হাজারখানেক রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ৫২ বছর আগেকার স্থাপিত একটি গভীর নলকূপ অকেজো হয়ে এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে অস্থায়ী ভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পানির চাহিদা মেটাবার চেষ্টা করা হলেও তাতে খুব একটা উপকার হয় নি ভুক্তভোগীদের। এদিকে গত কদিন যাবৎ বরিশালের পার্শ্ববর্তী নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যে কারণে জোয়ারের পানি নগরীতে প্রবেশ করে সৃষ্টি করেছে জলাবদ্ধতা। নগরীর লাখখানেক বাসিন্দার পানিবন্দী হবার সমস্যার খবরে তাই শেবাচিমের সংকটের চিত্র ঢাকা পড়ে ছিল খানিকটা।

হাসপাতালটির সার্জারি (নারী) বিভাগে গত ১৩ আগস্ট ভর্তি হওয়া এক রোগীর স্বজন মনিরা বেগম। তিনি জানান, প্রথম দিন থেকে পানির সমস্যায় ভুগছেন তারা। এর মধ্যে গত সপ্তাহের রোববার খাবার জন্য যে পানি তিনি হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করেছেন তা লবণাক্ত। এছাড়া গোসল কিংবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য যে পানি পাওয়া যায় সেটাও নোংরা।

মোজাম্মেল হাওলাদার নামে গাইনী বিভাগের আরেকজন রোগীর স্বজন রোববার সকালে জানান, বিভাগের শৌচাগার ও গোসলখানা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। কারু পানির সংকটের দরুণ কেউ ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। এমনকি সপ্তাহ জুড়ে তাদেরকে হাসপাতালের সামনের দোকানগুলো থেকে অতিরিক্ত মূল্যে সুপেয় পানি কিনে আনতে হয়েছে।

এদিকে শেবাচিমে পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী সেলিম তালুকদার জানান, পুরো হাসপাতালটিতে পানি সরবরাহের জন্য ১৯৬৮ সালে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এরপর আর কোনো পানযোগ্য পানি উত্তোলন কিংবা সরবরাহের ক্ষেত্র তৈরি করা হয় নি সেখানে। এই দুটি নলকূপের একটি বর্তমানে অকেজো থাকায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না গত রোববার (১৬ আগস্ট) থেকে।
এ ব্যাপারে গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের আবেদন করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় হয়ে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরু ঘটবে। তিনি বলেন,‘বর্তমানে অস্থায়ী ভিত্তিতে কয়েকটি পাম্প দিয়ে পানির অভাব মেটাবার চেষ্টা চলছে হাসপাতালে’।

তবে সহসাই এই সমস্যার সমাধান হবে না উল্লেখ করে প্রকৌশলী সেলিম তালুকদার বলেন,‘অকেজো নলকূপটি ঠিক করা যায় কিনা সেটা পরীক্ষা করার জন্য ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল বরিশালে গিয়েছিলো। সেটি আর ঠিক করা সম্ভব না বলে তারা জানিয়ে দিয়েছে। যে নলকূপটি অকেজো হয়েছে সেটির চেয়ে উন্নত কিংবা সমমানের নলকূপ স্থাপন না করা পর্যন্ত পানির সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়’। কিন্তু  রোববার (২৩ আগস্ট) পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নলকূপ স্থাপনের অনুমোদন মেলে নি বলে নিশ্চিত করেছেন এই কর্মকর্তা।

প্রসংগত, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (২৩ আগস্ট) বরিশাল নগরীর পার্শ্ববর্তী কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপদসীমা (২৫৫ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগের পাঁচদিন বিপদসীমা অতিক্রম করে যথাক্রমে ২০, ৪৩, ৫২, ৪৫ ও ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হবার ফলে প্লাবিত হয়েছে বরিশাল নগরীর অধিকাংশ এলাকা। যা থেকে পরবর্তীতে অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসীর এমন ভোগান্তিতে কিছুটা ম্লান হয়েছিল দক্ষিণ বঙ্গের সবচেয়ে বৃহৎ হাসপাতালটির পানির সমস্যার আলোচনা। কিন্তু সপ্তাহব্যাপী পানির সংকট এখন হাসপাতালে সেবা প্রদানে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে উপস্থিত হয়েছে।

Sharing is caring!