শেবাচিমে বকশিস বাণিজ্য

প্রকাশিত: ১১:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

খান আব্বাস ॥ ঘুষ, দুর্নীতি ও বকশিসের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে শেবাচিম হাসপাতালে কতিপয় কর্মচারীর বিরুদ্ধে। চিকিৎসা সেবার নামে জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত দিতে হয় বকশিস বা টাকা। টাকা বা বকশিস না দিলে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়। চিকিৎসা সেবার নামে বকশিশ বাণিজ্যের বিষয়টির বিরুদ্ধে বারবার রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও তা কোন কাজে আসে না। এসব বিষয় মানতে নারাজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক।

 

তিনি বলেন, ঘুষ-দুর্নীতি বকশিস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সব সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোচ্চার। সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজনে ট্রলিতে ওঠানামার ক্ষেত্রে ট্রলিম্যানদের ৫০ থেকে ১শ’ টাকা না দিলে ট্রলি জোটেনা। আয়াদের টাকা ছাড়া সেবা মেলাই দুষ্কর। ফলে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন সেবা থেকে। স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে গরিবরা ব্যাপক বৈষম্য ও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ধনী ও মধ্যবিত্তরা বেসরকারি খাত থেকে সেবা কিনতে পারলেও গরিবরা টাকার অভাবে মৌলিক অধিকার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান মতে, মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা পেতে ৬৪ শতাংশ টাকা নিজের পকেট থেকে দিতে হয়। তবে শেবাচিমের বেলায় পুরোটাই পকেট থেকে কাটা হয়। গরিবের টাকা খরচের সামর্থ্য না থাকায় তাদের জন্য সেবাও নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ৫ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের ওয়ার্ড গুলোতে গড়ে দৈনিক রোগী ভর্তি থাকেন প্রায় দেড় হাজারেরও বেশি। এ ছাড়া হাসপাতালের বহির্বিভাগেও চিকিৎসা নেয় প্রায় দুই হাজার রোগী। পথ্য, ওষুধসহ সব বিভাগের বরাদ্দ দেওয়া হয় হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী। তারপরও রোগীদের অভাব-অভিযোগের অন্ত নেই। জরুরি বিভাগে প্রবেশের পর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বের হওয়া পর্যন্ত পদে পদে রয়েছে বকশিসের অলিখিত বিধান।

সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পটুয়াখালী থেকে আসা মাহিনুর বেগম জানান, গত ৪ তারিখ পিত্তে পাথর সমস্যা নিয়ে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হই। ভর্তির শুরু থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত যেতে আমার দেড়শ টাকা লেগেছে। এভাবে যেখানে যাই টাকা ছাড়া সেবা মিলছে না।

 

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক স্টাফ জানান, হাসপাতালে অনেকেই আছি বেতনভুক্ত নন, এক্সট্রা হিসেবে কাজ করি। রোগীদের টাকায় আমাদের সংসার চলে।
হাসপাতালে রোগী ও তাদের স্বজনরা কর্মচারীদের বকশিস বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছেন।