শেবাচিমে নারী সহকর্মীকে উত্ত্যক্ত : ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম : কর্মচারীদের পাল্টা হুমকি

প্রকাশিত: ৬:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে উত্ত্যক্ত ও দুই অফিস সহায়ককে নির্যাতনের ঘটনায় ফের উত্তপ্ত হচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ। তারা উভয় পক্ষই বিচারের দাবি জানিয়ে ৭২ ঘণ্টার পাল্টা পাল্টি আল্টিমেটাম দিয়েছে। বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দাবি না মানা হলে কর্মবিরতিসহ আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। ফলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বিরোধ এখন তুঙ্গে উঠেছে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকেই শান্তি বজায় রেখে কার্যক্রম চালিয়ে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ডা. বাকির হোসেন। তিনি উল্লিখিত ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সকলকে অপেক্ষা করতে বলেছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারী সহকর্মীকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় দুই অফিস সহায়কের দ্রুত বিচার দাবিতে শেবাচিম পরিচালকের কাছে যান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এসময় তারা আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত দুই অফিস সহায়কের বিচার দাবি করেন। এ সময়ের মধ্যে বিচার না করা হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টার্নরা কর্মবিরতিতে যাবেন বলে হুমকি দেন।

অপরদিকে হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে তাদের দুই অফিস সহাককে ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্তৃক মারধরের ঘটনার বিচার দাবিতে পরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কর্মচারীরা জানান, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে তারাও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবেন।

এব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন বলেন, ঘটনার তদন্তে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদারকে সভাপতি করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সে সময় পর্যন্ত উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুন মধ্যরাতে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে দুই অফিস সহায়ক কর্তৃক উত্তক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এঘটনা তার সহকর্মী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানলে ওই দুই অফিস সহায়ক দিদারুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে ছাত্রাবাসে নিয়ে ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে পাল্টা অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিচালকের কাছে পরস্পরকে দায়ী করে বিচার দাবি জানিয়ে আসছেন ইন্টার্ন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।