শেবাচিমে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রায় ১৯ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গে নারীসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুই জন পুরুষ। এ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড এবং আইসোলেশন ইউনিটে ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে করোনা পজেটিভ হয়ে মারা গেছেন ৩২ জন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এসএম মনিরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ‘সবশেষ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ফাতেমা বেগম (৪৪) নামের করোনা আক্রান্ত নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি মহানগরীর বিমানবন্দর এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের স্ত্রী এবং বরিশাল বিমানবন্দর প্রকৌশলীর মা। গত ২৫ জুন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টায় মৃত্যু হয়েছে ইউসুব সরদার (৩৫) নামের ব্যক্তির। তিনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সারশি গ্রামের নূর মোহাম্মদ সরদারের ছেলে। তাকেও গত ২৫ জুন বিকাল সাড়ে ৪টায় শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

সকাল পৌনে ১০টায় মৃত্যু হয়েছে পুতুল রাণী দাস (৬০) নামের বৃদ্ধার। তিনি বরিশাল নগরীর কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোডের বাসিন্দা বলয় চাঁদ দাস এর স্ত্রী। গত ২৬ জুন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

এর আগে সকাল ৮টায় মৃত্যু হয়েছে ফিরোজা বেগম (৪০) নামের গৃহবধূর। তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার রামনগর গ্রামের রকিবুল ইসলামের স্ত্রী। গত ২৫ জুন বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তাকে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

তাছাড়া শনিবার রাত ১১টায় মৃত্যু হয়েছে কালাম ভূঁঞা নামের ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তির। তিনি ২৬ জুন রাত সাড়ে ৪টায় উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে। মৃত কালাম পটুয়াখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গনি ভূঁঞার ছেলে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. এস.এম মিনরুজ্জামান জানিয়েছেন, ‘মৃত্যু হওয়া ইউসুফ সরদার, ফিরোজা বেগম ও কালাম ভূঁঞার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের তিনজনেরই কোভিড-১৯ নেগেটিভ আসে।

এছাড়া এক নারীর করোনা পজেটিভ ছিল। অপরজনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট অপেক্ষমাণ রয়েছে। করোনা নেগেটিভ অবস্থায় যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে পুনরায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ওই কর্মকর্তা।