শেবাচিমের পানির সংকটে পোয়াবারো বিক্রেতাদের

প্রকাশিত: ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

প্রায় বায়ান্ন (৫২) বছর আগে স্থাপিত গভীর নলকূপ অকেজো হওয়ায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে বরিশাল বিভাগের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (শেবাচিম)। সহসাই এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা কম। তাই হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনদের এই সংকটকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দামে পানি বিক্রি শুরু করেছে একদল ব্যবসায়ী।তবে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন।

শেবাচিমের গাইনী বিভাগে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর স্বজন মোজাম্মেল হাওলাদার। তিনি গতকাল বুধবার সকালে জানান, সেখানকার শৌচাগার ও গোসলখানা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। কারণ পানির সংকটের দরুণ কেউ ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছেন না। এমনকি খাবার জন্য হাসপাতালের সামনের দোকানগুলো থেকে অতিরিক্ত মূল্যে পানি কিনে আনতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গতকাল বুধবার হাসপাতালটির সামনের দোকানগুলোতে সুপেয় পানি কিনতে গেলে দ্বিগুণ – তিনগুণ মূল্য বেশি রাখার প্রমাণ মেলে। জরুরী বিভাগের সামনে একটি কনফেকশনারি দোকানে আধা লিটার পানি কিনতে চাইলে দোকানদার ২৫ টাকা মূল্য চায়। কিন্তু পানির বোতলের গায়ে দাম লেখা ছিল ১৫ টাকা।

অন্যদিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ছোট ছোট ড্রামে (পাঁচ থেকে দশ লিটার ওজনের) একদল কিশোরকে পানি বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব বোতলে থাকা পানির দাম দোকানের চেয়ে কম। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নির্দিষ্ট বিভাগে অবস্থানরত রোগীদের কাছেও তারা পানি দিয়ে আসে শুধুমাত্র একটি ফোন কল দিলে।

এমন একজন মৌসুমি পানি বিক্রেতা রাজিন আহমেদের (১৬) সঙ্গে কথা হয়। সে জানায়, বর্তমানে তার স্কুল বন্ধ হওয়ায় এবং শেবাচিমে কয়েকদিন যাবৎ পানির সংকট দেখা দেয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে এই ব্যবসা শুরু করেছে। পাঁচ লিটার ওজনের দুটি ড্রাম বাড়ি থেকে নিয়ে গত শনিবার থেকে তিনি এখানে আসছে। হাসপাতালের পিছনে অবস্থিত পুকুর থেকে পানি ভরে প্রতিটি বোতল দশ থেকে পনেরো টাকা মূল্যে বিক্রি করে সে। এমনকি তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরে কল করলে রোগীর কাছেও পানি পৌঁছে দেয়। এতে করে তাকে অতিরিক্ত পাঁচ টাকা দিতে হয়।

হাসপাতালে পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী সেলিম তালুকদার জানান, পুরো হাসপাতালটিতে পানি সরবরাহের জন্য ১৯৬৮ সালে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। এরপর আর কোনো পানযোগ্য পানি উত্তোলন কিংবা সরবরাহের ক্ষেত্র তৈরি করা হয় নি। এই নলকূপ দুটির একটি থেকে ইদানীং লবণাক্ত ও নোংরা পানি উঠছিল। যে কারণে সেটি বন্ধ করার দরুণ বর্তমানে পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন,‘শেবাচিমের পানির সংকট দূর করার ব্যাপারে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। সাথে সাথে যারা রোগীদের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দামে পানি বিক্রির মতো ঘৃণ্য কাজে সামিল হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’। অতিরিক্ত মূল্যে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পানি বিক্রি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান এই সরকারি কর্মকর্তা।

Sharing is caring!