শেবাচিমের অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

জুনাইদ খন্দকার ও তানিম হাসান ইমন ॥

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের রাস্তার বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন মেরামত না করায় রাস্তাটি খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। শুধু জরুরী বিভাগই নয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সবগুলো সড়কের একই অবস্থা। এর ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, স্বজন এবং চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জরুরী বিভাগের প্রধান ফটক থেকে বান্দ রোড পর্যন্ত প্রায় ১০০ ফুট রাস্তা বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। একইভাবে হাসপাতালের পেছনের অংশে বিশেষ করে মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছাত্রী নিবাস সড়ক, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও ছাত্র হোস্টেল সড়ক, মেডিকেল কলেজ লেন ডক্টরস হোস্টেল থেকে গির্জা পর্যন্ত সড়কটি প্রায় চলাচলের জন্য অনুপযোগী হয়ে পরেছে।

জানা গেছে প্রায় বছর খানেক পূর্বে ডক্টর হোস্টেল থেকে গির্জা পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার কাজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এর কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কটির ইট-পাথর ও বিটুমিন সরে গিয়ে পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসে সড়কটি। তার মধ্যে সম্প্রতি বৃষ্টি আর জলোচ্ছ্বাসের কারণে সড়কটি এখন চলাচলের জন্য পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাছাড়া জরুরী বিভাগ সংলগ্ন সড়কটিতে টেকসই উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি দীর্ঘ দিনেও। ফলে এসড়কটিও এখন খানাখন্দে ভরে গেছে। অভিযোগ রয়েছে জুন ফাইনাল আসলেই সরকারের থোক বরাদ্দ হালাল করতে লিপস্টিক মার্কা উন্নয়নের মাধ্যমে লুটপাটের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

তবে এর পেছনে গণপূর্ত বিভাগ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগসূত্র রয়েছে বলেও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও চিকিৎসক সহ সংশ্লিষ্ট সকলের।

হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, দৈনিক এই রাস্তা থেকে ট্রলিতে করে আবর্জনা নিয়ে ভাগাড়ে ফেলতে হয়। এতে করে রোজ সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। মাঝে মধ্যে ভাঙা রাস্তার কারণে ট্রলির চাকা ভেঙে যাচ্ছে। এ দিকে শেবাচিমে অবস্থানরত একজন অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, দীর্ঘদিন যাবত রাস্তার এমন বেহাল অবস্থার কারণে জরুরী সময়ে অ্যাম্বুলেন্স চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত রাস্তা মেরামতের অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সেলিম তালুকদার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্ষার কারণে রাস্তাটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্ষার মৌসুম শেষ হলেই রাস্তাটি মেরামত করা হবে। এ বিষয়ে শেবাচিমের পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেনের সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

Sharing is caring!