শীঘ্রই পুনর্গঠন হতে পারে বরিশাল জেলা-মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি

প্রকাশিত: ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতির বক্তব্যে চাঙ্গা নেতা-কর্মীরা

খন্দকার রাকিব ॥ শীঘ্রই পুনর্গঠন হতে পারে বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বেসরকারি একটি টেলিভিশনের লাইভ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এমনই ইঙ্গিত দেন। এসময় তিনি বলেন, ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ সকল ইউনিটের কমিটি শীঘ্রই পুনর্গঠন করা হবে। তার এমন বক্তব্যে চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। পদ পেতে অনেকেই পছন্দের নেতার কাছে লবিং তদবির শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। আবার অনেকে রয়েছেন নিশ্চুপ। যারা নিশ্চুপ রয়েছেন তাদের মন্তব্য, নেতার নির্দেশে দীর্ঘ বছর মাঠে কাজ করে আসছি। এখন আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। নেতা যাকেই নেতৃত্বে যায়গায় বসাবেন তার সাথেই কাজ করে যাবো। যদিও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বরিশালের সন্তান। ফলে তার সাথে রয়েছে বরিশালের শীর্ষস্থানীয় অনেক ছাত্রলীগ নেতার সম্পর্ক। এক্ষেত্রে অনেকে সরাসরি ছাত্রলীগ সভাপতির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের ৯ জুলাই বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে মহানগর ছাত্রলীগে মো. জসিম উদ্দিনকে সভাপতি এবং অসীম দেওয়ানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। অপরদিকে জেলা ছাত্রলীগে মো. হেমায়েত উদ্দিন সুমন সেরনিয়াবাতকে সভাপতি ও আব্দুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও পুনর্গঠিত হয়নি বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর মেয়াদী ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণের কিছু দিন পর জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করলেও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিই গঠন হয়নি দীর্ঘ ৮ বছরে। যার ফলে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বের সুযোগ পাননি ত্যাগী এবং পরীক্ষিত ছাত্র নেতারা। বর্তমানে জেলা ও মহানগর থেকে শুরু করে ওয়ার্ড ও কলেজ ইউনিট পর্যন্ত সর্বত্রই পৃথকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র আস্থাভাজন বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। অবশ্য ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণের পেছনে এ নেতাদের ল্য- বরিশাল জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বের মাধ্যমে নতুন কমিটিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করা। তবে এ নেতাদের পছন্দের কোনো জায়গা নেই। তাদের দাবি, নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ যোগ্য মনে করলে কামিটিতে রাখবেন আর যোগ্য মনে না করলে কমিটিতে রাখবেন না। কাকে কোন্ পদ দিবেন সেটা নেতাই ভালো জানেন। ছাত্রলীগের এ নেতারা দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে এবং সাংগঠনিক কর্মকা-ে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও নতুন করে জেলা-মহানগর ও কলেজ কমিটি না হওয়ার কারণে অনেকটা হতাশায় ভুগছেন তাদের অনুসারীরা। তাদের অনেক অনুসারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এই প্রতিবেদককে জানান, নেতারাই পাচ্ছেননা নেতৃত্বের সুযোগ (কমিটির মাধ্যমে); আমরা আর কি করবো। ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে সাদিক আবদুল্লাহ’র আস্থাভাজন ওই ছাত্রলীগ নেতারাই নিয়ন্ত্রণ করছেন মহানগর, ওয়ার্ড এবং কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। তাদের ইশারাতেই প্রত্যেকটি ইউনিটে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সকল ধরনের কর্মকা- পরিচালনা করছেন। কোনো কোনো সময় নেতৃত্ব দেয়া নেতাদের পেছনে থেকে রাজনৈতিক সেøাগান দিতেও দেখা যাচ্ছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের। তবে নেতৃত্ব দেয়ার অবস্থানে রয়েছেন মাত্র ৭ থেকে ৮ জন ছাত্রলীগ নেতা। নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রলীগ নেতারা হলেন- জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিকউল্লাহ মুনিম, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব হোসেন খান ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতা রইচ আহমেদ মান্না, মাইনুল ইসলামসহ ৭/৮ জন। পদ-পদবি ছাড়াই এসকল ছাত্রলীগ নেতারাই নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দীর্ঘ বছর ধরে। কর্মী ও সমর্থকদের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন সব সময়ই। ফলে স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী ও অনুসারীরা নেতা হিসেবে এদের মধ্য থেকেই চাইছেন নেতৃত্ব স্থানে। এসকল বিষয়ে আলাপ করতে ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, শওকত হোসেন হিরন এর মৃত্যুর পর মহানগর ছাত্রলীগের পদধারী দুই নেতা একেবারেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। এর পূর্বে বাকি এক নেতা রাজনীতির মাঠ ছেড়ে চাকরিতে যোগ দেন। তাছাড়া মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত থাকায় এখন শুধু একজন রয়েছেন পদে। তারও নেই কোনো কার্যক্রম। ফলে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগে দলীয় এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভাটা পড়ে যায়। তৃণমূল পর্যায়ে দেখা দেয় হতাশা। এ অবস্থায় সাদিক আবদুল্লাহ’র নির্দেশনায় ছাত্রলীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের একত্রিত করে ধরে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা আবার দাবি করেন, শওকত হোসেন হিরনের আমলে পদধারী যেসব নেতারা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা সাংগঠনিক নন, কোরামভিত্তিক রাজনীতি এবং ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই অবস্থাতেই আমরা পদবঞ্চিত নেতারা মহানগর ছাত্রলীগে কোণঠাসা হয়ে থেকেও রাজপথে সংগ্রাম করে আসছি সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র নেতৃত্বে। তখনকার সময় যারা দলের নাম ভাঙিয়ে সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন তাদের এখন আর দেখা মিলছে না রাজনীতির মাঠে। তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা ছাত্রলীগের রাজনীতি করছি। এখানে সুযোগ সুবিধা পাওয়া না পাওয়ার কিছু নেই। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ভালোবাসা নিয়েই রাজনীতি করতে চাই আর তার নেতৃত্বে আমরা বরিশাল ছাত্রলীগের রাজনীতিকে কলঙ্ক মুক্ত রেখে শিা শান্তি প্রগতীর ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে যেতে চাই। কোনো পদ নয়, চাই সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ভালোবাসা।

Sharing is caring!