শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিয়মের আখড়া বরিশাল টিটিসি : তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি

প্রকাশিত: ৬:০৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২০

বন্ধ হচ্ছে বেতন-ভাতা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়েছে বরিশাল কারিগরি উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। বাড়ি ভাড়া নিয়ে কারসাজি, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করা, প্রতিষ্ঠানের গাড়ির যথেচ্ছ ব্যবহারসহ নানা অনিয়মে মেতেছেন তারা। মাসের পর মাস চলে আসা তাদের এই অনিয়ম এবং দুর্নীতির লাগাম টেনে দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বাড়ি বাড়াসহ যাবতীয় বিষয়ে তথ্য চেয়ে জেলা হিসাব নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে চিঠি দিয়েছে তারা। দুদকের দেওয়া ওই চিঠির উপর ভিত্তি করে চলতি মাস থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধানসহ অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হিসাব বিভাগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টিটিসি’র অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন যথেচ্ছভাবে। সরকারি বাসভবনে বাসবাস করলেও সঠিকভাবে পরিশোধ করছেন না ভাড়া। সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে পারিবারিক কাজে। এমনকি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়েছে ছাত্রাবাস। তার মধ্যে আবার দিচ্ছেন না বিদ্যুৎবিল।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ‘টিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. গোলাম কবির প্রতিষ্ঠানের কম্পাউন্ডে অবস্থিত আবাসিক ভবনে পরিবারসহ থাকেন। কিন্তু বাড়ি ভাড়া বাবদ মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কর্তনের নিয়ম থাকলেও

গত ১ বছর ধরে মাত্র ৫ শতাংশ ভাড়া পরিশোধ করছেন তিনি। আর প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যবহার করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

অপরদিকে উপাধ্যক্ষ ওয়াহিদ মোড়লও তার জন্য নির্ধারিত সরকারি বাস ভবনে থাকেন সপরিবারে। তিনিও ৪০ শতাংশের পরিবর্তে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন মাত্র ৫ শতাংশ হারে। একইভাবে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেও বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করছেন প্রতিষ্ঠানটির ইনস্ট্রাক্টর তৈয়বুর রহমানও। তার বিরুদ্ধে আবার যোগ হয়েছে ছাত্রাবাসে থাকার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করার অভিযোগ।

তাছাড়া অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ইলেকট্রিকাল ট্রেডের সাবেক ইনস্ট্রাক্টর মো. ফরিদউদ্দিনের বিরুদ্ধে। দুই বছর পূর্বে অবসরে যাওয়া এই শিক্ষক এখনো সরকারি বাসভবন রেখেছেন নিজের দখলে। যদিও মহাপরিচালকের অনুমতি নিয়েই তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন বলে দাবি সাবেক এই শিক্ষকের।
এছাড়াও আবাসিক ভবনে বাস করে ৫ শতাংশ হারে ভাড়া দিচ্ছেন টিটিসি’র প্রধান ইনস্ট্রাক্টর মো. হাবিবুল্লাহ, ইনস্ট্রাক্টর গোলাম ফারুক, মো. আলাউদ্দিন, স্টেনোগ্রাফার আবুল বাশার, মসজিদের ইমাম, ছানি ইমাম ও মুয়াজ্জিন এবং গাড়িচালক মো. বছির উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। এদের বিরুদ্ধে অবৈধ বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল নিয়েও কারসাজির অভিযোগও রয়েছে।

টিটিসি’র অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. গোলাম কবির ৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করলেও পারিবারিক কাজে প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এছাড়া চলতি মাস (জুলাই) থেকেই নির্ধারিত হারে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ছাত্রাবাসে বসবাস করে ৫ শতাংশ হারে ভাড়া দিচ্ছেন বলে দাবি ইনস্ট্রাক্টর তৈয়বুর রহমানের।

টিটিসির হিসাবরক্ষক আবদুর রশিদ বলেন, অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষসহ অন্যরা দাবি করেছেন, তাদের আবাসিক ভবনগুলো ব্যবহার অনুুপযোগী। সেগুলো মেরামতের জন্য অনেক আগে গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সাময়িক সময়ের জন্য তারা ৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

উল্লেখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা হিসাব নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অডিটর মো. ফারুক হোসেন বলেন, বাড়ি ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে টিটিসির শিক্ষক-কর্মচারীরা যেসব অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন সে বিষয়ে তথ্য চেয়েছে দুদক। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ৮ জুলাই বুধবার হাতে পেয়েছি। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে চলতি মাস থেকেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিল আটকে দেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!