শহরের হাটগুলোতে ভিড় কম : বিক্রি বেশি গ্রামে


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১১:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥
বরিশাল জেলায় এবার কোরবানি উপলক্ষে শহরে তিনটি এবং শহরের বাইরে প্রায় চল্লিশটি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটে পশু বিক্রি চলছে। তবে কম মূল্যে এবং বসতবাড়িতে পালিত পশু পাবার লক্ষ্যে শহরের বাইরের হাটগুলোতে ভিড় বেশি ছিল ক্রেতাদের। এর মধ্যে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে পশু বিক্রির সংখ্যা এখন পর্যন্ত গত বছরের চেয়ে কম। তবে আজ শেষদিন সবগুলো হাটে পশু বিক্রি বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বরিশাল নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ ইমরান হোসেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মিনি ট্রাকে করে জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কামারখালীতে স্থাপিত অস্থায়ী হাট থেকে কোরবানির পশু কিনে এনেছেন। এ ব্যাপারে তিনি জানান, গ্রামের হাটগুলোতে বিক্রেতারা সাধারণত নিজেদের বসতবাড়িতে পালন করা পশু নিয়ে আসে। অন্যদিকে শহরের হাটগুলোতে পেশাদার পশু বিক্রেতারা বিক্রির আগে তাদের পশুর ওজন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বন করেন। অনেকে খামারে পালন করা এমন পশু নিয়ে আসেন যাদেরকে রাসায়নিক ওষুধ খাইয়ে মোটা তাজা করা হয়। তাই শারীরিক ঝুঁকি বিবেচনা করে তিনি গ্রাম থেকে পশু কিনে এনেছেন।

নগরীর ৩ নং ওয়ার্ডস্থ কাউনিয়া টেক্সটাইল মিলের পার্শ্ববর্তী বটতলা বালুর মাঠে চলমান অস্থায়ী হাটে বিক্রেতা কম বলে জানা গেছে। হাটটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন,‘হাটে ক্রেতা এবং দর্শনার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু গরু বিক্রেতাদের উপস্থিতি কম’। তবে শেষদিনে বিক্রেতা বৃদ্ধি পেলে হাট জমজমাট হবার সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি।

সিটি করপোরেশনের বাজার পরিদর্শক রেজাউল করীম জানান, করোনা পরিস্থিতিতে নগরীতে হাটের সংখ্যা কম। ৬ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী হাটের সঙ্গে ৩ নং ও ২৪ নং ওয়ার্ডের অস্থায়ী ভিত্তিতে দুটি হাট চালু করা হয়েছে এবার। তবে তিনটি হাটেই বিগত দিনের জমজমাট ভাব ছিল অনুপস্থিত। তিনি বলেন,‘ শহরের হাটগুলোতে বেচাকেনা কম। সবাই জেলার প্রান্তিক পর্যায়ে হাটগুলোতে যাবার বিষয়ে আগ্রহী। বেশিরভাগ ক্রেতার ধারণা শহরের চেয়ে গ্রামের দিকের হাটগুলোতে কমমূল্যে পশু কিনতে পারবেন’।

বরিশাল জেলার সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের পশুর হাট পরিচালনাকারী জিয়াউল করীম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে ধারণা করেছিলাম এবার পশু বিক্রি কম হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত খুব একটা খারাপ বেচা কেনা হয় নি। পশুর দামও মোটামুটি সকলের কাছে সন্তোষষজনক ছিল’। তিনি আশা প্রকাশ করেন ঈদের আগের দিন আজ শুক্রবার হাটের বেচাকেনা আরো বৃদ্ধি পাবে।

এসব ব্যাপারে কথা হয় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নুরুল আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, দেশী এবং বিক্রেতাদের নিজেদের পালিত পশু কেনার জন্য ক্রেতারা গ্রামের হাটগুলোতে ভিড় করেন। এছাড়া শহরের হাটগুলোর চেয়ে শহরের বাইরের হাটগুলোতে তুলনামূলক কম মূল্যে পশু কিনতে পারেন বিধায় অনেকে শহরের হাট এড়িয়ে চলেন। তিনি বলেন,‘ করোনা পরিস্থিতিতে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হওয়ায় এবার কোরবানি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। যারা কিনছেন তারাও একটু কম মূল্যে ভালো পশু কেনার আকাঙ্খায় শহর ছেড়ে কাছাকাছি গ্রামের হাটগুলোতে ভিড় করছেন। তবে শেষ দিনে শহরের হাটগুলোতে বিক্রি বাড়ার সম্ভাবনা আছে’।