শঙ্কা আর প্রত্যাশা নিয়ে নতুন বছর বরণ


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২১

শফিক মুন্সি ॥ গত বছর (২০২০) উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা দেবার কথা ছিল রেদাউনুর রহমান সজিবের। বরিশাল নগরীর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র তিনি। কিন্তু করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় পরীক্ষা না দিয়েই উত্তীর্ণ (অটো পাস) হয়েছেন সজিব। সদ্য কৈশোর পেরুনো সজিবের কাছে এবারের মতো নির্জীব নতুন বছরের আগমন আগে কখনো ঘটে নি। তিনি বলেন, প্রতি বছরের শেষ রাতে এলাকায় বন্ধু এবং পরিচিত জনদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন থাকে। সারারাত আনন্দের আমেজে কাটানো হয়। নতুন বছর আসে উৎসবের মধ্য দিয়ে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এবার তেমন কোনো আয়োজন হয় নি সজিবের এলাকায়। শুধুমাত্র বাড়িতে সাদামাটাভাবে পরিবারের সবাইকে নিয়ে নতুন বছরের আগমনী ক্ষণ উদযাপন করেছেন এই তরুণ।

 

সজিবের মতোই এমন স্বাভাবিক চিত্র ছিল এবার গোটা বরিশালের। যা বর্তমান সময়ের কিশোর – তরুণদের কাছে একদমই অপরিচিত। সাধারণত প্রতি বছর এই দিনটিতে আনন্দ – ফূর্তির কমতি হয় না তাদের মধ্যে। নগরী জুড়ে রাতভর পিকনিক একদমই স্বাভাবিক। একটু উচ্চবিত্ত সমাজে থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আয়োজন করা হয় ডিজে পার্টি, গেট – টুগেদারসহ আরো অনেক কিছুর। শুধু যুবাদের মধ্যেই নয়, নতুন বছরকে বরণ করে নেবার পরিকল্পনা থাকে কম বেশি সবার মধ্যেই। একবিংশ শতাব্দীর হাল-হকিকতই তো এমন। বরিশাল নগরীর বিভিন্ন আধুনিক রেস্তোরাঁ, ক্লাব কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বছরের শেষ দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেসব অনুষ্ঠানে পরিবার নিয়ে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করে বিদায়ী বছরের অপ্রাপ্তি ভুলে যাবার চেষ্টা করে অনেকে। কিন্তু এবার জনসমাগম হয় এমন সব অনুষ্ঠান আয়োজনে বিধিনিষেধ বেধে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

অন্যদিকে নিজের ও আশেপাশের সকলের সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে উৎসব পালন থেকে বিরত থেকেছেন কেউ কেউ। অনেকে মুষড়ে ছিলেন মহামারির আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে। আতঙ্ক আর শঙ্কা নিয়েই বরিশালের নগরবাসী শেষ করেছেন বিদায়ী বছর। নতুন বছরে প্রত্যাশা করেছেন মহামারির ভয়াবহতা থেকে মুক্তির। কেউবা নিজ নিজ ধর্ম বিশ্বাসের সৃষ্টিকর্তার কাছে হাত তুলেছেন করোনা মুক্ত পৃথিবীর প্রার্থনা নিয়ে।

 

তবে শত বাধা বিপত্তির মধ্যেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় উদযাপন করা হয়েছে থার্টি ফার্স্ট নাইট। রাত ১২টা বাজতেই আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে ওঠে গোটা রাতের আকাশ। বরিশাল ক্লাব থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় নতুন বছরকে বরণ করতে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা আর নৈশ ভোজের আয়োজন ছিল। কোন কোন জায়গায় হয়েছে বার্বিকিউ পার্টিও। তবে সেটা বেশি রাত পর্যন্ত নয়। রাত সাড়ে ১২টা বাজতেই পুলিশের হানায় মলিন হয়ে যায় থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন অনুষ্ঠান। তবে শুক্রবার বছরের প্রথম দিনে শহরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণ পিয়াসু মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

নতুন বছর উদযাপন আর নতুনের আনন্দ ভাগাভাগিতে অনেকেই ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রিয় জনের হাত ধরে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তানভীর কায়সার বলেন, বিষে ভরা বছর পার করলাম আমরা। মহামারি করোনা কম বেশি সকলের ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং আশেপাশের চিত্র পরিবর্তন করে দিয়েছে। কিন্তু এখনো ভাইরাসটি বিলুপ্ত হয়ে যায় নি বরঞ্চ দ্বিতীয় ঢেউয়ের মাধ্যমে পুনরায় চোখ রাঙাচ্ছে। তাই নতুন বছরকে বরণ করতে হয়েছে করোনা ভয়াবহতার শঙ্কা নিয়ে।

 

অন্যদিকে নগরীর বটতলা মুনসুর কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, ২০২০ ছিল ছন্দপতনের বছর। পরিচিত অনেককে প্রাণঘাতি জীবাণু করোনার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। সাবধানতা অবলম্বন করতে গিয়ে দূরে থাকতে হয়েছে পারিবারিক পরিজন কিংবা উৎসব থেকে। নতুন বছর এমন চিত্রের সমাপ্তি টানবে এই প্রত্যাশা নিয়েই তিনি ২০২১ সালকে বরণ করেছেন।

 

নগরীর সাগরদী এলাকার বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মোজাম্মেল হক দিলেন একটু ভিন্নধর্মী চিত্রের তথ্য। তিনি বলেন, বছরের শেষ রাতের এশার নামাজে মসজিদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লীর আগমন ঘটেছিল এবার। এমনটা সচরাচর দেখা যায় না। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাযেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিগত কয়েক বছরে দেখেছি বছরের শেষ দিনটিতে গান – বাজনা আর আনন্দ – ফূর্তিতে মেতে ওঠে স্থানীয় যুব সমাজ সহ অনেকে।