লালমোহনে শিশুরোগ বৃদ্ধি : চিকিৎসায় দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০

এসবি মিলন, লালমোহন প্রতিনিধি ॥
ভোলার লালমোহন উপজেলায় হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পেয়েছে শিশুরোগ। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে অন্তত দুই সহস্রাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ডক্টরস চেম্বারে। শিশুরোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো সচল না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ভুক্তভোগীরা। প্রতিদিন ২০-২৫ কিলোমিটার করে পথ পাড়ি দিয়ে শিশুদের কোলে কাঁখে নিয়ে মায়েদের ছুটতে হচ্ছে উপজেলা সদরে।

 

এছাড়া উপজেলার আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ভূঁইফোড় ডক্টরস চেম্বার ও হাতুড়ে ডাক্তারদের দ্বারস্থ হচ্ছেন অনেকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব ডক্টরস চেম্বারগুলোতে দেখা যায় শিশু রোগী নিয়ে আসা অভিভাবকদের ভিড়। এই দুর্ভোগ নিরসনে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কৃর্তপক্ষ। এই অবস্থায় ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে দ্রুত ডাক্তার নিয়োগের দাবী উঠছে ভুক্তভোগী মহল থেকে।

 

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. মিজানুর রহমান জানান, এটি এক ধরনের সিজনালি বিষয়। প্রতি বছরই ঋতু পরিবর্তন হলে শিশু রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। আগের তুলনায় গত কয়েক দিনে ২০ শতাংশ শিশুরোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরাও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি সাধ্যমত। ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে ডাক্তার না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টি ইউনিয়নে সাব সেন্টার রয়েছে। সেখানে সপ্তাহে ২দিন করে এমবিবিএস ডাক্তার পাঠানোর চেষ্টা করছি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মহসিন খান বলেন, গত ১৫ দিনে এই হাসপাতালে প্রায় ৩ শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি নেই।

 

জানাগেছে, ২০১৯ সালে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৬ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং ৩টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ১ জন করে এমবিবিএস ডাক্তার পোস্টিং দেয়া হয়। এর মধ্যে মঙ্গলসিকদার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাঃ প্রজ্ঞা সাহা, পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ডাঃ মোঃ ফাহাদ নাছির, বদরপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ডাঃ মোঃ সরওয়ার্দী, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাঃ আফরোজা সুলতানা, চরভুতা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, চরপংখিরহাট উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাঃ শহিদুল ইসলাম, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ডাঃ এসএস মাজহারুল ইসলাম এবং সদর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ডাঃ আব্দুল্লাহ আল মর্শিদকে পোস্টিং দেয়া হয়।

 

কিন্তু পোস্টিং পাওয়া এসব ডাক্তারদের ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলেতে কখনই ঠিকমত পায়নি এলাকাবাসী । তাদের কেউ কেউ ট্রেনিংসহ বিভিন্ন অজুহাতে অন্যত্র অবস্থান করছেন এবং অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই অবস্থান করে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সচ্ছল ব্যক্তিদের পক্ষে উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হলেও বিপাকে পড়ছেন গরীব ও অসহায় রোগীর স্বজনরা। যার কারণে গ্রাম গঞ্জে গজিয়ে ওঠা ভূঁইফোড় ডক্টরস চেম্বার এবং কোথাও কোথাও হাতুড়ে ডাক্তাররাই দরিদ্র রোগীদের ভরসা। এই অবস্থায় অন্তহীন সমস্যা নিয়েই গরীব রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন এখানে ওখানে।