লালমোহনে বিয়ের আশ্বাসে ছাত্রীকে ধর্ষণ করলেন মাওলানা

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

লালমোহন প্রতিনিধি ॥ ভোলার লালমোহনে প্রতিবেশী মাওলানার খপ্পরে পড়ে ধর্ষিত হয়েছে মাদ্রাসা ছাত্রী। ঘটনার বিচার পেতে সমাজপতি ও আইন-আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ধর্ষিতার পরিবার। সামাজিকভাবে অসচ্ছল ও দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে ধর্ষক ও তার ভাই ধর্ষিতার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানী ও হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের বিচার পাওয়া দূরে থাক, উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যপারে লালমোহন থানার ওসি মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, আমরা আসামীদের ধরার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে পরিববারটি জানিয়েছে, ধর্ষক হেলাল মাওলানার পক্ষ নিয়ে তার ভাই সালাউদ্দিন প্রতিরাতে ৪-৫ টি মোটরসাইকেলে করে বহিরাগত ক্যাডার নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। সালাউদ্দিন ও তার ক্যাডারদের ভয়ে আমরা রীতিমত হাট-বাজারেও যেতে পারছি না।

জানাগেছে, গত বছরের ১০ অক্টোবর উপজেলার কচুয়াখালী মহিলা মাদ্রাসার সুপার শফিউল্লা মাওলানার ছেলে হেলাল মাওলানা ওই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে ‘কথা আছে’ বলে বাড়ি থেকে ডেকে রাস্তায় নেয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে পূর্ব অপেক্ষমাণ ৩-৪টি মোটরসাইকেলের একটিতে উঠিয়ে ক্যাডারদের সহায়তায় অন্যত্র নিয়ে যায়। কিছুদূর যাওয়ার পর ছাত্রীটিকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ঢাকার সাভারে নিয়ে যায় হেলাল মাওলানা। সেখানে তার এক আত্মীয়ের বাসায় উঠানো হয় ছাত্রীটিকে। ওই বাসায় ২ মাস রেখে অবৈধভাবে ছাত্রীটিকে অসামাজিক কাজে বাধ্য করে। এ ঘটনায় ছাত্রীটির বাবা রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৭/১০/২০২০ইং তারিখে ভোলার নালীশি আদালতে অপহরণ মামলা করেন। এর পর গত ৬/১১/২০২০ইং তারিখে নালিশী অভিযোগটি লালমোহন থানায় এফআইআর হয়।

এদিকে মামলার খবর পেয়ে হেলাল মাওলানা ছাত্রীটিকে দেশে এনে হেলাল মাওলানার ভাই সালাউদ্দিনের সহায়তা লালমোহন পৌর এলাকার তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় উঠায়। সেখানে ৭ দিন রাখার পর ছাত্রীটিকে আবারো বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ভোলার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে স্বেচ্ছায় পালিয়ে যাওয়ার সাজানো জবানবন্দি দেয়ায় ছাত্রীটিকে দিয়ে। পরে পুলিশের মাধ্যমে ছাত্রীটিকে পরিবারের কাছে দায়সারাভাবে হস্তান্তর করে কেটে পড়ে হেলাল মাওলানা।

পরে বিষয়টি সাজানো এবং প্রতারণা বুঝতে পেরে গত ৫/১/২০২১ইং তারিখে ছাত্রীটি তার বাবার সাথে পুনরায় আদালতে গিয়ে তার পূর্বের দেয়া জবানবন্দি প্রত্যাহার করে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। ছাত্রীটির আইনজীবী এডভোকেট মামুন জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগটি এফআইআর হলেই অভিযুক্ত হেলাল মাওলানার বিরুদ্ধে আইহনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এদিকে ধর্ষক হেলাল মাওলানার বিরুদ্ধে মামলা করে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ছাত্রীটির পরিবার। মামলার পর থেকে হেলাল মাওলানার ভাই সালাউদ্দিন, ছাত্রীটির পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রীটির বাবা রুহুল আমিন। বিষয়টি অবগত করে গত ২৬/১১/২০ইং তারিখে লালমোহন থানায় সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ছাত্রীটির পিতা রুহুল আমিন জানান, হেলাল মাওলানার বিরুদ্ধে আদালতে দুটি অভিযোগ, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে লালমোহন থানায় ডায়েরী-মামলা এবং ২০১২ইং সালের দোকান চুরির অভিযোগ, এত অপরাধের পরও সালাউদ্দিন ও হেলাল মাওলানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।

স্থানীয় পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ বলেন, ছাত্রীটিকে ঢাকা থেকে দেশে আনার পর অভিযুক্ত হেলাল মাওলানার পরিবারের অনুরোধে সামাজিক ফয়সালার জন্য বসেছিলাম। কিন্তু ফয়সালার তারিখ দিয়ে অভিযুক্ত হেলাল মাওলানা না এসে তার ভাই এলাকার কুখ্যাত মাদক বিক্রেতা সালাউদ্দিন ওরফে ইয়াবা সালাউদ্দিনকে পাঠায়। সালাউদ্দিন বৈঠক স্থলে হাজির হয়ে বিভিন্ন ধরনের শঠতামি করে চলে যায়। যার কারণে আমি কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি।