লালমোহনে ক্যারিং খরচের নামে জেলে পুনর্বাসনের চাল কালোবাজারে

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

এসবি মিলন , লালমোহন প্রতিনিধি ॥ ভোলার লালমোহনে জেলেদের মাঝে পুনর্বাসনের চাল সম্পূর্ণ বিতরণ না করে চালের একটা অংশ কালো বাজারে বিক্রির পাঁয়তারা করছেন জনপ্রতিনিধিরা। অভিযোগ উঠেছে; কালো বাজারে বিক্রির জন্য এ চাল বর্তমানে খাদ্য গুদামে রেখে দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে মে মাসের মধ্যে জেলেদের মাঝে এ চাল বিতরণের কথা ছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুরু থেকে দায়সারাগোছের মতো উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চাল বিতরণ করলেও উপজেলার ১নং বদরপুর ইউনিয়নে চাল বিতরণে ২ মাস দেরী করা হয়। এরই মধ্যে এপ্রিল মাস জুড়ে অবৈধ চাল উদ্ধারে প্রশাসনিক অভিযানকালে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদুল হক তালুকদার, মেম্বার ওমর ফারুক ও জুয়েল হাওলাদারের নামে চাল আত্মসাতের মামলা হয়। সে থেকে বিতরণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকলেও গত জুন মাসে তা আবার চালু করা হয়।
জানাগেছে, নির্ধারিত সময় ওভার করে জেলে পুনর্বাসনের চাল বিতরণ হলেও চালের একটি অংশ থেকে যায় খাদ্য গুদামে। মার্চ ও এপ্রিল মাসের জেলে পুনর্বাসনের চাল এখনও খাদ্য গুদামে মজুদ থাকায় লালমোহন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে চাপ সৃষ্টি করেছে ঊর্ধ্বূতন কর্তৃপক্ষ। জানতে চাইলে লালমোহন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল শিকদার প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অবশ্য বলেন, উপজেলার সব ইউনিয়নেই জেলেদের চাল নিয়ে গেছে। শুধু বদরপুর ইউনিয়ন প্রায় ৪০ টন চাল রেখে গেছে। যা এখনও উত্তোলন করেনি। এনিয়ে আমরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। বার বার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও তারা চাল গুলো নিচ্ছে না। জানাগেছে, শুধু বদরপুরই নয় সব ইউনিয়নই ক্যারিং খরচের নামে জেলেদের চাল কালো বাজারে বিক্রি করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে বদরপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোকসেদ আহাম্মদ বলেন, খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা ঠিক বলেননি। গুদামে আমাদের কোনো চাল নেই। আমাদের অন্য চাল থাকতে পারে। আমরা রবিবার কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করবো।

জানাগেছে, প্রতি বছর মার্চ ও এপ্রিল মাসে নদীতে সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এসময়ের মধ্যে বেকার হয়ে পড়া প্রতিজন জেলেকে মাথাপিছু ৪০ কেজি করে মোট ৪ মাসের চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা ‘নয় ছয়’ করে সময় পার করে ঢিলে ঢালাভাবে চাল বিতরণ করলেও ক্যারিং খরচের নামে চালের একটা অংশ কালো বাজারে বিক্রি করে দেন। অপরদিকে প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে চাল নিয়ে যায় বিভিন্ন পেশার লোকেরা।

স্থানীয়দের দাবী, ভবিষ্যতে যাতে কালো বাজারিরা জেলেদের চাল কিনতে না পারে সে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারী বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।