লালমোহনে করোনার ভয়াল থাবায় জুন মাসেই আক্রান্ত ২৫ জন

প্রকাশিত: ১:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

এসবি মিলন, লালমোহন প্রতিনিধি ॥ ভোলার লালমোহনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হার। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও ডাক্তার থেকে শুরু করে সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী পার্যায়ের লোকজন। এর পরও সচেতন হচ্ছে না কোনো মানুষ। কোনো ধরনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই মানুষের মাঝে। সব কিছুই চলছে আগের মতোই স্বাভাবিক।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, চলতি জুন মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ জন। এর আগের মাসে অর্থাৎ মে মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। সরকারী ভাবে সংগৃহীত নমুনায় এই আক্রান্তের রিপোর্ট না পাওয়া গেলেও কার্যত লালমোহন উপজেলায় আক্রান্তের তালিকা আরো দীর্ঘ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। চলতি জুন মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্তত ১০ জন বিশিষ্ট ও বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি মারা গেছেন। যাদের অনেকেরই করোনার উপসর্গ ছিল।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে, আক্রান্তের দিক থেকে গত ২৭ জুন এক দিনেই ৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এই ৭ জনের মধ্যে দু’জন রয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা। তারা হলেন, সোনালী ব্যাংক লালমোহন শাখার কর্মকর্তা শামীম আলম এবং কৃষি ব্যাংক মঙ্গলশিকদার শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী রাসেল। অপর পাঁচ জনের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার গজারিয়া এলাকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী রাধা ডাক্তারের মেয়ে তনু, ছেলে সৌরভ এবং ভাই অনিল চন্দ্র। এছাড়া লালমোহন পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডে আক্রান্ত হয়েছেন ঠিকাদার ফজলুল হক ও তার ছেলে তামিন। এসব আক্রান্তরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় আইসোলেশনে রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে লালমোহন পৌর এলাকায়ই রয়েছেন ১৫ জন এবং উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে রয়েছেন ১৪ জন।

এর আগে গত ১৩ জুন একদিনে আক্রান্ত হন ৬ জন। এই ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন লালমোহনে অবস্থানরত কোস্টগার্ডের সদস্য সুলতান আলী, জাহিদুল, বলোরাম, রামনাথ, লালমোহন থানা পুলিশের এএসআই রোমানা ইসলাম এবং লালমোহন শহরের ব্যবসায়ী হাজি রফিকুল ইসলাম। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে নতুন আক্রান্ত ৭ জন ছাড়া আগের সবাই স্বাভাবিক হয়েছেন।

এদিকে সোয়াব স্টিক (স্যাম্পল নেয়ার কাঠি) না থাকায় গত ৭ দিন ধরে করোনার নমুনা সংগ্রহ করতে পারছে না লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। উপসর্গ নিয়ে সমাজে বিচরণকারী অনেকে দিতে পারছেস না করোনার নমুনা।

এ বিষয়ে ভোলার সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে আমরা সোয়াব স্টিক সরবরাহ পাইনি, তাই এমনটি হয়েছে। তবে আগামী দু’এক দিনের মধ্যে স্যাম্পল সংগ্রহ করতে পারবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো।

Sharing is caring!