রৌমারীতে মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০২০

মাসুদ পারভেজ, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ॥ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার একটি মাদ্রাসায় দুইজন কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় ২২ লাখ টাকা নিয়োগ বানিজ্যসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জামাত নেতা সুপার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। রৌমারী উপজেলা থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন উলিপুর উপজেলার প্রতন্ত অঞ্চলের একটি মাদ্রারাসায় গোপনে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে পরিচালনা কমিটির সদস্য ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশ পত্র না পাওয়া প্রার্থীরা অভিযোগ করেন।

এজন্য মাদ্রারাসা বোর্ডের মহা-পরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে একজন কর্মকর্তাকে বিমান ভাড়া দিয়ে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তায় এনে ঘন্টা খানেকের মধ্যে নিয়োগ সম্পন্ন করে ওই কর্মকর্তা বিমান যোগে ফিরে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শিরা জানিয়েছে। তবে বিমান যোগে আসার বিষয়টি ওই কর্মকর্তা অস্বীকার করেছেন।
মাদ্রারাসা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ফুলজান বছিরিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার ও ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাও. রফিকুল ইসলাম সম্প্রতি গোপনে দু’টি পত্রিকায় একজন নিরাপত্তা কর্মী ও একজন আয়া পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেন। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি গোপন রেখে স্থানীয় চাকুরী প্রত্যাশী ২/৩ টি পরিবারের সাথে সুপার দরকষাকশি শুরু করে। এরমধ্যে নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে নিয়োগের জন্য ৬ শতাংশ জমি ও ২২ লাখ টাকায় রুহুল আমিন ও আর্জিনা খাতুনদের পরিবারের সাথে চুড়ান্ত রফা করেন সুপার।

অত্র মাদ্রাসার সুপার এলাকার লোকজনদের চোখে ধুলো দিয়ে অত্যন্ত গোপনে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া গুছিয়ে আনেন। আয়া পদে ১০জন প্রার্থী আবেদন করলেও ৬ জন প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র না দিয়ে তার পছন্দের প্রার্থীর নিয়োগ চুড়ান্ত করতে তিনজন প্রক্সি প্রার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশ পত্র দেন।

অন্যদিকে নিরাপত্তাকর্মী পদে সুপারের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে রুহুল আমিনসহ মাত্র দুইজন প্রক্সি প্রার্থী হিসেবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রবেশপত্র দেন। মাদরাসা সুপারের স্বাক্ষরিত বাংলায় লেখা ওই প্রবেশ পত্রটির ৬টি স্থানে বানান ভুল ছিল।
জনশ্রুতি রয়েছে, ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ি মাঝবিল বালিকা দাখিল মাদ্রারাসাটি সুপারের জামাতার বাড়ির কাছে হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়াটি নির্বিঘœ করতে ওই এলাকা বেচে নেন সুপার। এদিকে, গোপন নিয়োগের বিষয়টি ফাঁস হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল প্রস্ততি সম্পন্ন শেষে সুপার গত ৩ জুন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের প্রতিনিধি চেয়ে আবেদন করেন। ওই পত্রের প্রেক্ষিতে গত ৫ জুলাই মহা-পরিচালক মাদরাসা ২০১৮ জনবল নিয়োগ কাঠামো অনুযায়ী নব-সৃষ্ট নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে নিয়োগ বোর্ডে তার প্রতিনিধি হিসেবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন শাখার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনিত করেন।

মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুর রশিদ, আব্দুল সালাম অভিযোগ করে বলেন, ‘মাদরাসা সুপার মাও. রফিকুল ইসলাম ও ডিজি’র প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে যোগ সাজশ করে গোপনে নিয়োগ বোর্ডের বিষয়টি চুড়ান্ত করেন। তাঁরা আরো বলেন, নিয়োগ বোর্ডের বিষয় আমরা কিছুই জানিনা।’
এছাড়াও পরিকল্পিতভাবে গত ১১ জুলাই ওই কর্মকতার্কে বিমানে করে উলিপুরে নিয়ে আসেন। মাত্র ঘন্টা খানেকের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের প্রতিনিধি আবারও বিমানে করে ঢাকা ফিরে যান বলে নিয়োগ বোর্ড সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেন। এ গোপন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাষ্টার মাইন্ড হিসেবে রৌমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবিএম নকিবুল হাসান নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন।
মাদরাসা সুপার মাও. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিধি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় হয়েছে। তবে টাকা লেনদেনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

ডিজি’র প্রতিনিধি প্লেনে আসার বিষয় জানতে চাইলে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শফিয়ার রহমান স্বীকার করে বলেন, নিয়োগ বোর্ডে আমি উপস্থিত ছিলাম। কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবি এম নকিবুল হাসান বলেন, ডিজির প্রতিনিধি ওই দিনই প্লেনে এসে প্লেনে গেছেন। নিয়োগ পরীক্ষায় কোন অনিয়ম হয়নি।

নিয়োগ বোর্ডের ডিজির প্রতিনিধি উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিমানযোগে আসার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কুড়িগ্রাম পর্যন্ত বাস যোগে এসে উলিপুর উপজেলায় একটি মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষায় উপস্থিত হই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, যাতায়াতের সকল খরচ সাধারণত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দেয়।

 

Sharing is caring!