রাজাপুরে খালে পাইলিং করে দখলদারদের ভবন নির্মাণ

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

গোপাল কর্মকার, রাজাপুর প্রতিনিধি ॥ ঝালকাঠির রাজাপুর শহরে জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দখলদাররা খাল দখলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জাঙ্গালিয়া-ধানসিড়ি নদী থেকে উঠে আসা ভারানি খালটি উপজেলা সদর বাজার এর দক্ষিণ অংশ হয়ে জেলখানার পেছন থেকে বাইপাস এলাকার ব্রিজ হয়ে আঁকা-বাঁকা ভাবে আলগীর মধ্য দিয়ে সত্যনগর গিয়ে আবার জাঙ্গালিয়া নদীর সাথে মিশেছে।

উপজেলা সদরের পানি নিষ্কাশনের এটিই একমাত্র প্রধান খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এই নদীটি দখলদারদের কবলে পড়ে আজ মরা খালে আবার কোথাও নালায় পরিণত হয়েছে। এই খালে নৌকায় করে বাজারে আসা-যাওয়া, স-মিল ও ধান মিলে ধান নেয়া, বাজারের মালা-মাল বহনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবসায়ী ও কৃষকরা এ খালটি ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। জোয়ারের সময় সামান্য পানি থাকলেও ভাটার সময় পানি শূন্য হয়ে পড়ে।

এ কারণে শহরের কোথাও আগুন লাগলেও পানি সংকট দেখা দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পানির উৎস পাওয়া যায় না। এছাড়া খালটি ও তার ছোট ছোট শাখা নালাগুলো ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই এ খালের আশপাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সেই খাল ও নালা নানা কৌশলে দখলে নিলেও প্রভাবশালীরা ও পয়সাওয়ালাদের ভয়ে সকলে চুপ থাকলেও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাপা ােভ বিরাজ করছে। খাল দখলে প্রভাবশালী, পয়সাওয়ালা ও জনপ্রতিনিধিরা জড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনও মুখ থুবড়ে রহস্যজনক ভূমিকায়, আরও উৎসাহী হচ্ছে দখলদাররা।

এ সুযোগে খাল দখল মহলটি দিন দিন খাল দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে। বর্তমানে উপজেলা সদরের বাইপাসমোড় এলাকায় বিএনপি অফিস এর পশ্চিম পাশের খালটি ভরাট করে আবারও কাজ শুরু হয়েছে। জানাগেছে, প্রায় এক বছর পূর্বে জমির মালিক মোঃ বেলায়েত হোসেন হাওলাদার পাইলিং দিয়ে খাল ভরাট করে খাল সংকুচিত করে ফেলেন। স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখে মৌখিক ভাবে কাজটি বন্ধ করে দেয়।

এক বছর পরে পুনরায় আবার খালে পাইলিং দেয়ার কাজ শুরু হয়। খবর পেয়ে আজ শনিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনা স্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত এ খালটি উদ্ধার ও ব্যবহারের উপযোগিতা ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা এবং কার্যকরী পদক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লিখিত খাল ভরাট এর ব্যাপারে সার্ভেয়ার মোঃ রফিক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, খালের মধ্যে পাইলিং বসালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং প্রবাহমান খালে পাইলিং দেয়া যাবেনা বলে জানিয়েছি। প্রবাহমান খাল বাদ দিয়ে কার্য পরিচালনা করার জন্য বলা হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!