রাঙ্গাবালীতে স্পিডবোট দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হননি নিখোঁজ ৫ জন

প্রকাশিত: ৪:২৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০২০

কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী প্রতিনিধি ::

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার আগুনমুখা নদীতে যাত্রীবাহী স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও ব্যাংক পরিদর্শক সহ ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও তাদের উদ্ধার করা যায়নি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় আগুনমুখা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

দুর্ঘটনাকালে নদী বন্দরে ২নং সতর্ক সংকেত ও সমুদ্র বন্দরে ৩নং সতর্ক সংকেত জারি ছিল। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দুর্যোগপূর্ণ এ আবহাওয়ার মধ্যে ১৮ জন যাত্রী নিয়ে রুমেন-১ নামের স্পিডবোটটি কোড়ালীয়া থেকে পানপট্টির উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মাঝপথে আগুনমুখা নদীর ঢেউয়ের আঘাতে স্পিডবোট উল্টে গেলে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান।

এসময় সাঁতার কেটে ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় চালক সহ ১৩ জন জীবিত উদ্ধার হন। নিখোঁজ থাকেন বাকি ৫ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. মহিব্বুল্লাহ ও কৃষি ব্যাংক বাহেরচর শাখার পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আশা ব্যাংকের খালগোড়া শাখার কর্মকর্তা কবির হোসেন, বিদ্যুতের কাজে আসা দিনমজুর মো. ইমরান ও মো. হাসান মিয়া।

নিখোঁজদের সন্ধানে নদীতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের কয়েকটি টিম। উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিতে পটুয়াখালী সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে আসার কথা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কৃষি ব্যাংক বাহেরচর শাখার ব্যবস্থাপক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, নদীর মাঝখানে স্পিডবোট উল্টে গেলে নিচে চাপা পড়েন তিনি। আরো কয়েকজন এভাবেই চাপা পড়েন। কিছুক্ষণ পরে সেখান থেকে তারা বের হতে সক্ষম হন। পরে সাঁতার কাটতে শুরু করেন। সাঁতার কেটে পাশের একটি চরে গিয়ে উঠলে, স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা উদ্ধার হন। তখন যারা উঠতে পারেননি, তারাই নিখোঁজ। তাদেরকে পরবর্তীতে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজদের মধ্যে রাঙ্গাবালী থানার কনস্টেবল মো: মহিব্বুল্লাহর মা অসুস্থ। তাই ছুটি নিয় বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। দুর্ঘটনার খবর পেয় তাৎক্ষণিক রাঙ্গাবালীর ইউএনও মাশফাকুর রহমান, থানার ওসি আলী আহম্মেদ ও ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন সহ পুলিশ ঘটনাস্থেল পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। বর্তমানে উপেজলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের উদ্যোগে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। কোস্টগার্ডও ঘটনাস্থলে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। খবর দেয়া হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলী আহম্মেদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া ছিল। নদী বন্দরে ২ নম্বর ও সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল ছিল। এর মধ্যে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া স্পিডেবাট চালানোর দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। বর্তমানে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা পৌঁছালে উদ্ধার অভিযান জোরালো হবে। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্পিডবোট চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দোষীদের কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবেনা। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!