রাঙ্গাবালীতে সরকারী সহায়তা চেয়ে মৎস্য চাষীদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ৪:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২০

কামরুল হাসান রুবেল, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

জোয়ারের পানিতে ভেসে যাওয়া ঘেরে পুনরায় মাছ চাষের জন্য সরকারী সহায়তা চেয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন উপজেলার মৎস্য ব্যবসায়ী ও চাষীরা। এতে অংশ নেন অর্ধ শতাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্য চাষী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো.জুবরাজ আকন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা এই এলাকার বেকার যুবক। চাকুরীর পিছনে না ঘুরে নিজ উদ্যোগে মৎস্য হ্যাচারী ও মাছের ঘের করে মাছ চাষ করছি। কিন্তু অমাবস্যার প্রভাবে গত ১৯ থেকে ২৪ আগস্টে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে আমাদের শত শত হেক্টর জমির ঘের তলিয়ে যায়। এতে গলদা, বাগদা, রুই, কাতল, পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া সহ বিভিন্ন প্রজাতির কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে যায়। এছাড়াও নষ্ট হয়ে যায় হ্যাচারীতে চাষ করা মাছের রেণু পোনা। কিন্তু এত বড় বিপর্যয় গেলেও মৎস্য বিভাগ কিংবা সরকারের কোন প্রতিনিধি আমাদের কোন খোঁজও নেননি। এমনকি মোবাইল ফোনে বারবার অনুরোধ করেও মৎস্য বিভাগের লোকজনকে ঘটনা স্থলে আনতে পারিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ব্যবসায়ী রওশান মৃধা বলেন, ‘এবছর আমি ৪টি ঘেরে মাছ চাষ করছি। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়। কিছু দিন পরেই মাছ ধরার সময় ছিল। ঘের গুলো যদি পানিতে না তলিয়ে যেত, তাহলে এবছর অন্তত ৫০ লাখ টাকার মাছ বিক্র করতে পারতাম। লাখ লাখ টাকা লোকশান দিয়ে এখন আমরা শূন্য হয়েগেছি। ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোন পথ আমাদের নেই। মৎস্য চাষীরা যাতে পুনরায় মাছ চাষ করতে পারেন, সে জন্য সরকারের কাছে সগযোগিতার দাবী জানাচ্ছি।’ একই দাবী জানিয়েছেন- মৎস্য চাষী রাহাত হাওলাদার, আহসান মনির, রবিউল হাসান, সোলায়মান ফরাজি, নুর জামাল ও হানিফ শিকাদার প্রমুখ।

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল হক বাবুল জানান, জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এ উপজেলায় প্রায় ১৫শ’ মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে। ২৮০ হেক্টর জমির ঘের থেকে মাছ ভেসে যায়। এতে ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠানো এবং পরবর্তীতে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Sharing is caring!