যুবলীগ নেতাকে কারাগারে পাঠানোর জেরে বাউফলে ব্যবসায়ীকে হুমকি

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২০

বার্তা ডেস্ক  ::

যুবদল নেতার মামলায় এক যুবলীগ নেতাকে আদালত কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী গাজী মো. গিয়াস উদ্দিনের (৪৪) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুই দফায় বন্ধ করে দেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা।
খবর পেয়ে শুক্রবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা সটকে পড়েন। পরে দোকান খোলা হয়।

কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. মিজান মোল্লার (৪২) নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সদরের একটি হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন গিয়াস উদ্দিন।

গিয়াস উদ্দিন বলেন,দেড় বছর আগে তাঁর দায়ের করা একটি মামলার প্রধান আসামি কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন বাবুর্চি (৩৬) গত বুধবার পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারিক হাকিম মোহাম্মাদ সিহাব উদ্দিন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কালাইয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মো. মিজান মোল্লার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল গত বুধবার দুপুরে তাঁর (গিয়াস উদ্দিন) কালাইয়া প্যাদা রোডের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (ওয়ালটনের শো-রুম) যান। তখন তাঁরা শাহিনকে না ছাড়িয়ে আনা পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য বলেন এবং তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে তাঁরা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দফায় তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেন।

খবর পেয়ে দুপুর ১২ টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাঁরা সরে যান। তখন আবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়।
তিনি আরও বলেন,শাহিন বাবুর্চিকে কারাগারে পাঠানোর পর থেকে বিভিন্ন মহল থেকে মুঠোফোনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আমার জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ স্ট্যাটাস ও কমেন্ট করা হচ্ছে।

এর আগেও আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং আমার একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসতে পারছি না।

এ বিষয়ে যুবলীগ নেতা মিজান মোল্লা বলেন,‘হুমকি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়নি। তবে তাঁকে (গিয়াস) কারাগারে থাকা শাহিনকে ছাড়িয়ে আনার জন্য বলেছি।’

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কেউ তাঁর (গিয়াস) ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের প্যাদা রোড এলাকার গিয়াস উদ্দিনকে তাঁর বাসা থেকে যুবলীগ নেতা শাহিন ডেকে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তিনি (শাহিন) ও তাঁর লোকজন তাঁকে হাতুড়িপেটা করে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়। অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হওয়ার পরে একই বছরের ১৯ ফেব্রæয়ারি শাহিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ ব্যক্তির নামে আদালতে মামলা করেন।

Sharing is caring!