যাদের নিয়ে হতে পারে কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেল

প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

আপাতত বড় বাধা কেটে গেছে কাজী মো. সালাউদ্দিনের। তরফদার মো. রুহুল আমিন সভাপতি পদে নির্বাচন করবেন না ঘোষণা দেয়ার পর ফাঁকা পোস্ট দেশের সর্বকালের সেরা এ ফরোয়ার্ডের সামনে। নাটকীয় কিছু না ঘটলে ধরেই নেয়া যায়, আগামী এপ্রিলের নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হতে যাচ্ছেন তিনি।

দুই বছরের অধিক সময় ভোটের মাঠে দৌড়ঝাপ করে রণেভঙ্গ দেয়া তরফদার মো. রুহুল আমিন বলেছেন, ‘অন্য কেউ সভাপতি পদে নির্বাচন করলে করতেও পারেন। আমাদের জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল সংগঠক পরিষদ এবং বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন বসে শক্তিশালী প্যানেল দেবে।’

এ ঘোষণায় নির্বাচনের একটা ঝাঁজ রয়েই গেছে। সভাপতি পদে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক বা না হোক-অন্যান্য পদে ভোটের লড়াই যে হবে সেটা অনুমেয়। এখন দেখার বিষয় সেই লড়াইয়ের মেরুকরণটা কিভাবে হয়।

কেবল ফুটবল পাড়ারই নয়, পুরো ক্রীড়াঙ্গনের দৃষ্টিই এখন কাজী মো. সালাউদ্দিনের দিকে। চতুর্থবারের মতো সভাপতি পদে নির্বাচনে তিনি কাদের নিয়ে প্যানেল সাজিয়ে নামবেন, তা জানার কৌতুহল সবার। যদিও এখনো নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা হয়নি। তরফদার মো. রুহুল আমিন নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার পর নির্বাচনী পরিবেশ আপাতত ঝিমিয়ে। নতুন প্রার্থী আসছেন, হ্যাভিওয়েট প্রার্থী আসছেন-এ ধরনের কথাবার্তা উড়ছে বাতাসে। এ মুহূর্তে বাফুফে নির্বাচনের কৌতুহল বলতে এতটুকুই।

২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে বাফুফে সভাপতির নেতৃত্বাধীন প্যানেলের হয়েছিল নিরঙ্কুশ বিজয়। সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতির চারজনের মধ্যে ৩ জন এবং সদস্যের ১৫ জনের ১২ জনই নির্বাচিত হয়েছিল কাজী মো. সালাউদ্দিনের প্যানেল থেকে।

এবার কাদের নিয়ে প্যানেল করবেন কাজী মো. সালাউদ্দিন? এ বিষয়ে এখনো কিছু প্রকাশ করেননি একযুগ ধরে বাফুফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কিংবদন্তি এ ফুটবলার। তবে তার ঘনিষ্টজনসূত্রে যতটুকু জানা গেছে, তাতে বর্তমান নির্বাহী কমিটির ৮০ ভাগই তিনি বেছে নেবেন নিজের প্যানেলে। বাকি ২০ ভাগ হবেন নতুন।

সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে আবদুস সালাম মুর্শেদী, সহসভাপতি হিসেবে কাজী নাবিল আহমেদকে এবারও দেখা যাবে কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেলে। গতবার তার প্যানেল থেকে নির্বাচিত দুই সহসভাপতি-বাদল রায় ও মহিউদ্দিন আহমেদ মহির সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল ধরেছে আগেই। কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেলে সহসভাপতি হিসেবে এবারও দেখা যেতে পারে গত নির্বাচনে এই পদে হেরে যাওয়া চট্টগ্রাম আবাহনীর মহাসচিব শামসুল হক চৌধুরীকে। সদস্য হারুনুর রশিদকে এবার সহসভাপতি হিসেবে পদোন্নতি দিতে পারেন কাজী মো. সালাউদ্দিন। তা না হলেও অভিজ্ঞ এ সংগঠক সদস্য হিসেবেই থাকবেন।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসানের বিষয়টিও আভাস দিয়েছেন কাজী মো. সালাউদ্দিনের ঘনিষ্ট একজন। শামসুল হক চৌধুরী, হারুনুর রশিদ ও ইমরুল হাসান-এই তিনজনের যে কোনো দুইজনকে সালাউদ্দিনের প্যানেলের সহসভাপতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কাজী মো. সালাউদ্দিনের প্যানেলের শামসুল হক চৌধুরীকে হারিয়ে সহসভাপতি হয়েছিলেন তাবিথ এম আউয়াল। ন্যাশনাল টিমস কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সভাপতির গুডবুকে আছেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে, তাবিথ এম আউয়াল এবারও এককভাবে নাকি কোনো প্যানেলে নির্বাচন করবেন, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।

গত নির্বাচনে কাজী মো. সালাউদ্দিনের প্যানেল থেকে সদস্য পরাজিত হয়েছিলেন তিনজন-তৌফিকুল ইসলাম তোফা, আলমগীর খান আলো ও সালেহ জামান সেলিম। তাদের মধ্যে এবার সালেহ জামান সেলিমকে প্যানেলে রাখতে পারেন কাজী মো. সালাউদ্দিন। গত নির্বাচনে ‘বাঁচাও ফুটবল’ পরিষদ থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন শেখ মোহাম্মদ আসলাম ও বিজন বড়ুয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন মো. ইকবাল হোসেন। গত চার বছরে বিজন ও ইকবালের পারফরম্যান্সে কাজী সালাউদ্দিন খুশি বলেই জানা গেছে। তাই এই দুইজন এবার ঢুকবেন সালাউদ্দিনের প্যানেলে, সেটা ধরেই নেয়া যায়।

বতর্মান কমিটির বাকি যে ১২ জন সদস্য আছেন তাদের মধ্যে কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেলে থাকাটা নিশ্চিত শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, আমিরুল ইসলাম বাবু, জাকির হোসেন, সত্যজিত দাশ রুপু, মাহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, ইলিয়াছ হোসেন ও মাহফুজা আক্তার কিরণের। ঝুলে আছে বাকিদের ভাগ্য।

Sharing is caring!