মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভায় কাউন্সিলর প্রার্থীর হামলায় আ’লীগ নিহত : বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১১:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২১

মনির দেওয়ান, মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর প্রার্থীর হামলায় আফসার সিকদার (৫৫) নামের এক আওয়ামী লীগ নেতা খুন হয়েছেন। রবিবার দুপুরে পিটিয়ে আহত করা হলে সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিহত আফসার সিকদার পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক ছিলেন। এছাড়া মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ওই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নুরুল হক জমাদ্দারের সমর্থক ছিলেন বলে জানাগেছে।

 

এ ঘটনার প্রতিবাদে মেহেন্দিগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। তারা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নুরুল হক জমাদ্দার বলেন, ‘আসন্ন পৌর নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আমার সমর্থক ছিলেন আফসার সিকদার। এ কারণে আমার প্রতিপক্ষ উটপাখী প্রতীকের প্রার্থী সাকিও কাওসার ওরফে নিপ্পন তালুকদারের সাথে রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে পৌর শহরের পাতারহাট আর.সি কলেজের সামনে আফসার সিকদারের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় নিপ্পন তালুকদার ক্ষুব্ধ হয়ে আফসারকে মারধর শুরু করেন। এতে আফসার রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচ- আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে রোববার রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

 

এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করে নির্বাচনী সহিংসতায় খুন হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আফসার সিকদারের ছেলে মো. রিমন সিকদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হলেও আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে হত্যা মামলা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, সকালে আফসার সিকদারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। বেলা ১২টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ হামলাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এলাকাবাসীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পাতারহাট বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তেমুহনী চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় বক্তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আফসার সিকদারের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানান। এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ দস্তগীর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আফসার সিকদারের হত্যাকারীদের গ্রেফতারসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন কর্মসূচি বাতিল করেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে চরহোগলা ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড চুনারচরসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে একাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পৌর নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্র বিরাজ করছে উত্তেজনা।