মেহেন্দিগঞ্জে বৃদ্ধার চুল কেটে মধ্যযুগীয় নির্যাতন: বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে এক বৃদ্ধাকে চুল কেটে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এর পরেও থেমে নেই নির্যাতনকারীরা। হত্যাসহ বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের।

তাই এ নির্যাতন বন্ধ করে শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন নির্যাতিত বৃদ্ধা সফুরা বেগম (৬৫) ও তার পরিবারের সদস্যরা। পাশাপাশি নির্যাতনের এই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানার আন্দারমানিক গ্রামের বৃদ্ধা সফুরা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে সফুরা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার মেয়ে সনিয়া বেগম। এসময় তিনি বলেন, ‘একই এলাকার জনৈক সেকান্দার আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ৪০ হাজার টাকায় ১৮ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন।

সম্প্রতি সেকান্দার ওই জমি বাবদ আরও দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে গত ১৫ জুলাই বৃদ্ধা সফুরার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। এসময় তার মাথার চুল কেটে এবং কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে তারা।

এই ঘটনার সাথে সেকান্দার আলী হাওলাদার ছাড়াও তার ছেলে সহিদ হাওলাদার, মো. তৌহিদ হাওলাদার, মৃত হারুন সিকদারের ছেলে মো. ফারুক হাওলাদার. মো. যুবরাজ, আয়নাল হাওলাদারের ছেলে মো. মোতালেব হাওলাদার, মো. সাইফুল হাওলাদার, সহিদ হাওলাদারের ছেলে প্রিন্স হাওলাদার, ফারুক সিকদারের স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও মৃত হারুন সিকদারের স্ত্রী খাদিজা বেগমও জড়িত রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় কাজীরহাট থানায় উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও পুলিশ প্রথমে চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ দেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত সপ্তাহের শেষ দিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে যান ওই বৃদ্ধা।

তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘মারধর এবং চুল কেটে নির্যাতনের পরেও ক্ষান্ত হননি অভিযুক্তরা। অপর একটি মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে আসামিরা পুনরায় সফুরা এবং তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানী, হুমকি এবং নির্যাতন চালাচ্ছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় স্থানীয়রা তাদের এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারছেন না বলেও দাবি করেছেন ওই বৃদ্ধা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ‘শুধু সফুরা বেগমকেই নয়, ইতিপূর্বে তার স্বামী মান্নান সরদারকে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করে। এ ঘটনায় সফুরা বেগম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু স্থানীয়দের চাপে পরবর্তীতে সেই মামলাটি তুলে নিতে হয়েছে।
সর্বোপরি সংবাদ সম্মেলন করে সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও শান্তিতে বসবাসের সুব্যবস্থা করতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সু-দৃষ্টি কামনা করেন বৃদ্ধা সফুরা বেগম ও তার মেয়ে সনিয়া বেগম।

গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয় নিয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জমি নিয়ে ওই দুই পরিবারের পুরনো বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছিলো। তারা জামিনে বের হয়ে ফের ওই পরিবারকে নির্যাতন করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Sharing is caring!