মেহেন্দিগঞ্জে গৃহপরিচারিকা কিশোরী ধর্ষণ ও গর্ভপাত নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

মনির দেওয়ান, মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণ এবং এর ফলে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। পরে জেলার পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে আইনী সহায়তা পেয়েছে ধর্ষিতা কিশোরীর পরিবার।

তবে ধর্ষণের এই ঘটনা নিয়ে ভিন্ন অভিযোগও রয়েছে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না করায় কিশোরীর বাড়িতে হামলা-ভাংচুর চালিয়ে রাতের আঁধারে কিশোরী ও তার বাবাকে থানায় তুলে নিয়েছে তারা। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। তার দাবি সালিস মীমাংসার মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ব্যর্থ হওয়া ব্যক্তিরাই এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর চর এককরিয়া ইউনিয়নের চরলতা গ্রামের মো. আক্কাস আলী বেপারীর কিশোরী মেয়ে ৭-৮ মাস পূর্বে থেকে মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চরহোগলা গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন হিরুশাহ’র ছেলে জুয়েল শাহ’র বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতো। সেই সুযোগে কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন জুয়েল শাহ। এতে চলতি বছরের গত জানুয়ারি মাসে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। প্রথম দিকে কিশোরী বিষয়টি বুঝতে না পারলেও একসময় সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং জুয়েল শাহ’র স্ত্রী লীয়া সীমাকে ঘটনা খুলে বলে। পরে পরীক্ষা করে তিনি জানতে পারেন কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা। এরপর থেকেই শুরু হয় কিশোরীর গর্ভপাত ঘটনোর পরিকল্পনা। এর ধারাবাহিকতায় কিশোরীর ৬ মাসের গর্ভাবস্থায় প্রথমে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের গাইনী বিভাগে এবং পরবর্তীতে বরিশাল নগরীরই তার কোন এক বন্ধুর বাসায় রেখে এক নার্স এবং এক আয়ার সহযোগিতায় কিশোরীর অবৈধ গর্ভপাত ঘটানো হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে কিশোরী ও তার পরিবার গত বৃহস্পতিবার মামলা করার জন্য মেহেন্দিগঞ্জ থানায় যায়। কিন্তু থানায় প্রবেশের আগেই পুলিশের দালাল খ্যাত এক সাংবাদিক মামলা না করে সালিস মীমাংসার জন্য ভিকটিমকে নিয়ে যান। এমনকি পরবর্তীতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মীমাংসাও করেন তিনি। যেখানে অভিযুক্ত জুয়েল শাহকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। যার মধ্যে মেয়ের পরিবার দেড় লাখ টাকা এবং দালাল চক্র বাকি টাকা আত্মসাত করে। যদিও সালিসে ধার্যকৃত টাকার বৃহৎ একটি অংশ মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি’র পাওয়ার কথা বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

এদিকে সালিস মীমাংসার নামে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা পৌঁছে যায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় পর্যন্ত। তাই পুলিশ সুপারের নির্দেশে দালাল চক্রের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এমনকি গতকাল শনিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন কিশোরীর বাবা।

তবে পাল্টা অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ধারণকৃত একটি ভিডিও সূত্রে জানাগেছে, কিশোরীর ভাই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। মামলা না করা এবং দাবিকৃত এক লাখ টাকা না দেওয়ায় মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ পাঠিয়ে দরজা ভেঙে কিশোরী ও তার বাবাকে থানায় তুলে নিয়ে যান। এমনকি কিশোরীর ভাই গতকাল শনিবার সকালে তার বাবা ও বোনের সাথে দেখা করতে গেলে গালিগালাজ এবং তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে পুলিশ তাকে থানা থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেন কিশোরীর ভাই।

তবে ঘটনা সঠিক নয় দাবি করে বরিশাল জেলার এসপি সাইফুল ইসলাম- বিপিএম বলেন, ‘একটি চক্র যারা চেয়েছিল ঘটনাটি সালিস মীমাংসার মাধ্যমে সমঝোতা করবে। সেটা না পেরেই পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাছাড়া কিশোরীর বাবা নিজেই গত দু’দিন পূর্বে থানায় গিয়ে মামলা করেছেন। তার মেয়েকে ধর্ষণ এবং বরিশালে নিয়ে গর্ভপাতের অভিযোগ করেছেন তিনি। মামলার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা করছে বলেও জানিয়েছেন এসপি।