মেহেন্দিগঞ্জে গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা : এলাকাজুড়ে নতুন গুঞ্জন

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ::

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাটে গণধর্ষণের শিকার নববধূকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পৌঁছে দেয় কাজীরহাট থানা পুলিশ।

অপর দিকে গণধর্ষণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আত্মহত্যার চেষ্টা করা গৃহবধূ বাদী হয়ে কাজীরহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার রাতে দায়ের হওয়ায় মামলায় ধর্ষকসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- স্থানীয় বাবু হাওলাদার, রাজিব ফকির, নাজমুল ও একজন ইউপি সদস্যসহ মোট ৫ জন। তবে মামলার কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে গৃহবধূ গণর্ধষণের ঘটনার বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসেছি। পরকীয়া প্রেমিকের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়েই গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বুধবার বিকালে সরেজমিনে এমন তথ্যই জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

কাজীরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘গণধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা নববধূর জ্ঞান ফিরলে মঙ্গলবার রাতেই তিনি বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি বুধবার তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য পুলিশ প্রহরায় শেবাচিমের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।

গৃহবধূর ভগ্নিপতি আবু বক্কর জানান, ‘মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই গৃহবধূকে একই এলাকার নাজমুল, বাবু ও রাজিব গত রবিবার রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আটকে রাখেন। ওই রাতে বাবুসহ তার বন্ধুরা মিলে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর দিন অর্থাৎ সোমবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য পরান ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে ওই গৃহবধূকে তাঁর মায়ের কাছে ফিরিয়ে নেয়া হয়। এর পর পরই গৃহবধূ ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে দাবি তার পরিবারের।

গৃহবধূ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পার্শ্ববর্তী হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এদিকে বুধবার বিকালে সরেজমিন পরিদর্শকালে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ‘গৃহবধূর গত তিন মাস পূর্বে বিয়ে হয়েছে। তবে তার আগে থেকেই বাবু নামের যুবকের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিলো। বিয়ের পরেও সেই সম্পর্ক থেকে যায়।

এর সূত্রধরে রোববার রাত ১টার দিকে বাবু তার বন্ধুকে দিয়ে নববধূকে ঘরে ডেকে নেয়া হয়। পরে ওই বাড়িতেই বাবু ও গৃহবধূ অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এর পর পরই বাবু’র অপর দুই বন্ধু গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেন। যদিও ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত বলেও দাবি করেছেন কেউ কেউ। কেননা ঘটনার রাতে তারা ঘরের ভেতরে থাকাবস্থায় বাহির থেকে কেউ তাদের দরজা বন্ধ করে দেয়। এর পর পরই স্থানীয়দের খবর দেয়া হয়।

যদিও গণর্ধষণের এই ঘটনাটির তদন্তে বেশ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে দাবি জেলা ও কাজীরহাট থানা পুলিশের। এমনকি প্রাথমিক তদন্তে এরই মধ্যে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রের। তবে এ নিয়ে এখনই মুখ খুলতে রাজি হাননি সংশ্লিষ্ট কেউ।