মেহেন্দিগঞ্জে কাজের মেয়েকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যা : কথিত সাংবাদিক কর্তৃক সালিস : পুলিশের হস্তক্ষেপে মামলা

প্রকাশিত: ৩:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

মনির দেওয়ান,মেহেন্দিগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ মেহেন্দিগঞ্জে কাজের মেয়েকে ধর্ষণ ও ৬/৭ মাসের ভ্রূণ হত্যা, কথিত সাংবাদিক কর্তৃক সালিস মীমাংসা ও পুলিশের হস্তেেপ মামলা দায়ের করার ঘটনা ঘটেছে। সূত্র জানায়, বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উলজেলার ৩ নং চর এককরিয়া ইউনিয়নের চরলতা গ্রামের মোঃ আক্কাছ আলীর মেয়ে ছদ্ম নাম ছালমা (১৪) কে বিগত ৭/৮ মাস পূর্বে জুয়েল শাহ, পিতা: তোফাজ্জেল হোসেন হিরু শাহ ৫ নং সদর ইউনিয়নের চরহোগলা গ্রামে কাজের বুয়া হিসেবে যোগদান করান।

কাজে যোগদানের কয়েকদিন পরেই জুয়েল শাহ ছদ্মনাম ছালমা (১৪) কে নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। কিন্তু ছালমা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে জুয়েল ক্ষিপ্ত হয়ে সুযোগ বুঝে সালমাকে বাসার রুমের মধ্যে আটকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এরপর প্রতিনিয়ত ছালমাকে ব্ল্যাক মেইল করে ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার অবৈধ সম্পর্ক তথা শারীরিক সম্পর্ক করেন।

এরই ফলশ্রুতিতে ছালমার জানুয়ারি মাসে গর্ভে সন্তান আসে। কিন্তু ছালমা কিশোরী সালমা বিষয়টি বুঝতে পারে নি। গর্ভাস্থায় বেশ কয়েকবার জুয়েল শাহ ছালমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করেন। গর্ভে সন্তান আসার পর নানা রকম শারীরিক অসুস্থতার জের ধরে জুয়েল শাহ’র স্ত্রী মোসাঃ লীয়া’র কাছে ঘটনা খুলে বলে। তখন জুয়েল শাহ’র স্ত্রী লীয়া বলেন, তোর কিচ্ছু হয় নি।

এভাবে চলতে থাকে ৩ মাস, যখন ধীরে ধীরে সীমা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন জুয়েল শাহ বিষয়টি বুঝতে পেরে, ছালমাকে সরাসরি বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে নিয়ে যান। সেখানের ডাক্তার ও নার্স এ অবস্থায় বাচ্চা নষ্ট করার পরামর্শ দিলে জুয়েল শাহ তার এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে এক নার্স ও আয়াকে দিয়ে ৬ মাসের মেয়ে বাচ্চা প্রসব করান। এক পর্যায় মেয়েটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেহেন্দিগঞ্জ থানায় মামলা করতে আসলে দালাল খ্যাত কথিত সাংবাদিক ভিকটিমকে থানা থেকে নিয়ে উভয় পকে উপস্থিত রেখে একটি সালিস মীমাংসায় বসেন। সেখানে অভিযুক্তের সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে মেয়ের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা বাকি টাকা দালালচক্র আত্মসাত করে।

এভাবে একটি নবজাতককে জন্মের সাথে সাথে হত্যা ও মেয়েকে ধর্ষণ করে অর্থ বিত্তের মালিক জুয়েল শাহ পার পেয়ে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে আজ শনিবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মেয়ের বাবা আক্কাছ আলী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১০। এই ঘটনায় দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলে পুলিশ।

এ নিয়ে এলাকায় তীব্র ােভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এই বিষয়ে ভিকটিমের বাবা বলেন, আমরা থানায় মামলা করতে গেলে এক সাংবাদিক সহ কয়েক ব্যক্তি থানায় গিয়ে আমাদের নিয়ে আসেন ফয়সালা করে দিবেন বলেন। পরে বলেন আপনি দেড় লাখ টাকা নিয়ে চুপ থাকেন। অভিযুক্ত জুয়েল শাহ ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি। এবিষয়ে ওসি আবিদুর রহমান জানান, মামলা হয়েছে, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।