মৃত রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ!

প্রকাশিত: 3:27 PM, July 5, 2019

অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বেগমকে সিজারিয়ান প্রসবে অস্ত্রোপচারের জন্য আনা হয় লোহাগড়ার মা ক্লিনিকে। অপারেশন থিয়েটারে সুস্থ অবস্থায় নেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু অস্ত্রোপচার চলাকালে মারা যান বিলকিস। মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত জেনেও কর্তব্যরত চিকিৎসক দায় এড়াতে উন্নত চিকিৎসার অজুহাতে তাঁকে পাঠান নড়াইল সদর হাসপাতালে।ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়ার লক্ষ্মীপাশায় অবস্থিত মা ক্লিনিকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে বিলকিসের সিজারিয়ান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের কামাল হোসেন ও তার আত্মীয়স্বজন মা ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। দুপুরে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে সুস্থ অবস্থায় ওই গর্ভবতীকে নেওয়া হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচার চলাকালেই মারা যান ওই গর্ভবতী। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসক তাজরুল ইসলাম তাজ কৌশলে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যান। এ সময় ক্লিনিকের পরিচালক জাহাঙ্গীর ও নার্স কাম আয়ারা তড়িঘড়ি করে মৃত বিলকিসকে নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসার অজুহাতে পাঠান।

সদর হাসপাতালারে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীকে পরীক্ষা করে বলেন, অন্তত ৪০ মিনিট আগে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় রোগীর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশ পুনরায় মা ক্লিনিকের সামনে নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে রোগীর লোকজন ও স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে ক্লিনিক ঘিরে ফেলে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের স্বামী কামাল হোসেন বলেন, সুস্থ অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারে বিলকিসকে নেওয়া হয়। কিন্তু মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে নড়াইল সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার নামে মৃত বিলকিসকে পাঠিয়েছিল ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে  বিলকিসের মৃত্যু হয়েছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই।

ক্লিনিকের মালিক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ক্লিনিকের সঙ্গে অপর একটি  পক্ষের তিন লাখ টাকায় সমঝোতার দেনদরবার চলছিল বলে সূত্র জানায়।লোহাগড়া থানার ওসি মো. মোকাররম হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। লাশ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Share Button