মৃত খাল ও অকার্যকর ড্রেনই বরিশাল নগরীর কাল : জলাবদ্ধতার পঞ্চম দিনে বরিশাল


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১১:৫৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

শফিক মুন্সি ॥

বরিশাল নগরী ও আশেপাশে নদী বিধৌত অঞ্চলগুলো গত পাঁচদিন যাবৎ অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় খাল গুলো মরে যাওয়া ও সংকুচিত হওয়া এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্রিয়তার অভাবে জোয়ারের পানি ভাটির টানে নামতে পারছে না। ফলে নগরবাসীকে ভোগান্তিতে ফেলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন মৃত খাল ও অকার্যকর ড্রেনই বরিশাল নগরীর কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি আগস্ট মাসে নগরীজুড়ে জলাবদ্ধতার এমন ঘটনা এই নিয়ে দ্বিতীয় বার। বিগত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার সর্বোচ্চ রেকর্ডও গড়েছে এবার। তাই অতিরিক্ত জোয়ারের পানির প্লাবন যেন ভবিষ্যতে নগরবাসীর ভোগান্তির কারণ হিসেবে প্রতীয়মান না হয় সেজন্য এখন থেকে ভাবতে হবে বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা। আর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কীর্তনখোলা নদীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত পাঁচটি খাল পুনঃ খনন ও নদী পার্শ্ববর্তী মূল পয়েন্ট গুলোতে সøুইজ গেট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, (২২ আগস্ট) বরিশাল নগরীর পার্শ্ববর্তী কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপদসীমা (২৫৫ সেন্টিমিটার) অতিক্রম করে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগের চারদিন বিপদসীমা অতিক্রম করে যথাক্রমে ৪৩, ৫২, ৪৫ ও ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হবার ফলে প্লাবিত হয়েছে নগরীর অধিকাংশ এলাকা। যা থেকে পরবর্তীতে অধিকাংশ জায়গায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অতি জোয়ারের এই পানি প্রবাহতার হার বিগত দিনের সকল বন্যাকেও হার মানিয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

পাউবো বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুম জানান, তাদের কাছে যে তথ্য আছে সেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ১৯৭০ সালের পর থেকে এপর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর সর্বোচ্চ পানি প্রবাহিত ছিল ৩০৭ সেন্টিমিটার। যা গত ২০ আগস্ট প্রবাহিত হয়ে নদী পার্শ্ববর্তী অঞ্চলকে প্লাবিত করেছে। জোয়ারের অতিরিক্ত পানি যেন সহজে ভাটির টানে নেমে যেতে পারে এজন্য নগরীর খালগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

বরিশাল জুড়ে এই দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতার পিছনে নগরীর খালগুলো দূষণ-দখলে হত্যার শিকার হওয়াকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সরকারি বিএম (ব্রজমোহন) কলেজ শিক্ষক আক্তারুজ্জামান খান। তিনি বলেন, বরিশাল নগরী ২২ টি খাল দ্বারা ইতালির ভেনিস শহরের মতো জলবিধৌত ছিল। কিন্তু স্থানীয় সরকারের তদারকির অভাবে এসব খালগুলো দূষণ ও দখলের মাধ্যমে হত্যার শিকার হয়েছে। একই সঙ্গে নদী শাসনের ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সক্রিয়তার অভাব জলাবদ্ধতাকে করেছে দীর্ঘমেয়াদী ‘।

অন্যদিকে অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা যেকোনো শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধান অন্তরায় বলে মনে করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক স্বর্ণালি মাহমুদ। তিনি জানান, একটি শহরে পরিকল্পিত, আধুনিক ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব। যদি বরিশাল নগরীকে পুরোপুরি ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় আনা যায় তবে বর্তমানে যে ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে সেটা কেটে যাবে। তবে এক্ষেত্রে ড্রেনগুলোতে যেন আবর্জনা জমে পানি আটকে থাকার মতো অবস্থা সৃষ্টি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে বলেও জানান এই দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ।

তবে বরিশাল নগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণে খাল পুনঃখনন ও সøুইজ গেট নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক। গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার ইন্দুরকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত জোয়ারের ফলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কালে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।

এসময় তিনি জানান, কীর্তনখোলা নদীর জোয়ারের অতিরিক্ত পানি যে পাঁচটি খালের মাধ্যমে নগরীতে প্রবেশ করে সেগুলো পুনঃখনন করা হবে। এছাড়া পানি প্রবেশের মূল অংশগুলোতে সøইজ গেট নির্মাণ করার পরিকল্পনা আছে।এতে করে জোয়ারের পানি শহরকে প্লাবিত করতে পারবে না। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব কার্যক্রম বাস্তবতার মুখ দেখতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে বলেও জানান এই মন্ত্রী।