‘মুসলিম জাতির পিঠে ছুরি মেরেছে আরব আমিরাত’

প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২০

বার্তা ডেস্ক ॥

ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের ঐতিহাসিক সমঝোতার নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ। ইরান এই চুক্তির ব্যাপারে কড়া নিন্দা জানিয়ে বলেছে, আরব আমিরাত এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিম জাতির পিঠে ছুরি মেরেছে।

ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ‌’বিপজ্জনক’ এবং ‘বোকামি’ বলে বর্ণনা করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণায়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ফিলিস্তিনদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য ইউএই কখনোই ক্ষমা পাবেনা।

এদিকে ফিলিস্তিনিরাও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সমঝোতাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এর নিন্দা করে বলেছেন, ‘এটি জেরুসালেম, আল-আকসা এবং ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’

একজন উর্ধ্বতন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা হানান আশরাউই এই সমঝোতার নিন্দা করে বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে তলে তলে যেসব গোপন লেনদেন আর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছিল, সেটা এবার প্রকাশ হয়ে গেল। তিনি আবুধাবির প্রিন্স মোহাম্মদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিজের বন্ধুর দ্বারা কেউ যেন এভাবে বিক্রি হয়ে না যান‍।’

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিলিস্তিনি দূতকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসও বলেছে, এটি ফিলিস্তিনি জনগণের পিঠে ছুরিকাঘাত।

এছাড়া খুবই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তুরস্কও। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ হজম করা যায় না।

তবে ইসরায়েলের মিত্র মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল-সিসি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। ইসরায়েলের আরেক মিত্র জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেছেন, এই চুক্তির পর থমকে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু হতে পারে।

ইসরায়েলের সঙ্গে এর আগে কেবল মাত্র দুটি আরব রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক হয়েছে। প্রথমটি মিশরের সঙ্গে, ১৯৭৯ সালে। এই চুক্তি করার পরিণামে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতকে প্রাণ দিতে হয়েছে। দ্বিতীয়টি জর্ডানের সঙ্গে, ১৯৯৪ সালে। বিবিসি

Sharing is caring!