মুলাদী-বানারীপাড়া পৌর নির্বাচনে নৌকার পথের কাঁটা বিদ্রোহী: সুযোগ খুঁজছে বিএনপি

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১

খান রুবেল ॥  ১৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার মুলাদী ও বানারীপাড়া পৌরসভার ভোট গ্রহণ। তাই শুক্রবার থেকে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। এখন শুরু হয়েছে বিজয়ের ক্ষেত্রে ভোটের হিসাব নিকাশ। দুটি পৌরসভাতেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, রাজনৈতিক বিরোধী দল বিএনপি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে দুই পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর বাইরে রয়েছেন একজন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী। যারা নির্বাচনী ময়দানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

 

এদিকে, দুই পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা এবং সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১৪ জনকে এরই মধ্যে বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। এর পরেও শঙ্কা কাটছে না আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের। কেননা বিদ্রোহীরাই নৌকার বিজয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অপরদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর কঠোর অবস্থানের সুযোগ খুঁজছেন রাজনৈতিক বিরোধী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। এ ক্ষেত্রে ১৪ ফেব্রুয়ারি দুটি পৌরসভায় সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোটের প্রত্যাশা করছেন তারা।

 

তাছাড়া দুটি পৌরসভাতেই প্রভাব মুক্ত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে শতভাগ আশাবাদী নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে পৌরসভা দুটিতে বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলার অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সোহেল সামাদ।
বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ‘তৃতীয় ধাপে বরিশালের মুলাদী ও বানারীপাড়া পৌরসভার নির্বাচন আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এদিনে বরিশালের বাইরে কলাপাড়া পৌরসভাতেও ভোট হবে। এর মধ্যে মুলাদী এবং বানারীপাড়া পৌরসভার ভোট নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও তাদের সমর্থকরা।

 

সরেজমিনে জানাগেছে, ‘জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মুলাদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত শফিকউজ্জামান রুবেল, বিএনপি মনোনীত অধ্যাপক মো. আল মামুন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মঞ্জুরুল আলম মেয়র পদে দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা দিদারুল আহসান খান।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের দাবি মুলাদী পৌরসভায় ১৭ হাজার পাঁচ শতাধিক ভোট রয়েছে। যার মধ্যে পূর্বের হিসাব মতে বিএনপি দলীয় ভোটার প্রায় অর্ধেক। বাকি ভোট আওয়ামী লীগ এবং ইসলামী আন্দোলনের। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের।
এর কারণ উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘দিদারুল আহসান খান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। পৌর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের বৃহৎ একটি অংশের সমর্থন তার ওপর রয়েছে বলে দাবি দলীয় মহলের। তাছাড়া ১০ বছর দায়িত্বে থাকাবস্থায় বর্তমান মেয়র শফিকউজ্জামান রুবেল পৌর এলাকার তেমন উন্নয়ন করেননি। তাই তাকে পুনরায় দলীয় মনোনয়ন দেয়ার বিপক্ষে সাধারণ ভোটারদের একটি অংশ। তাই নির্বাচনে নৌকার বিজয় অনেকটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

 

অপরদিকে, বানারীপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নৌকার বিজয়ের পথে কাঁটা হয়ে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থী জিয়াউল হক মিন্টু। ৯ সহস্রাধিক ভোটার নিয়ে গঠিত এ পৌর সভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করছেন সাবেক মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল। তিনি সর্বমহলে ক্লিন ইমেজের লোক হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রিয়াজ মৃধা।

 

এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই হবে না বলে দাবি স্থানীয় ভোটারদের। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ এবং স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর মধ্যে। এর কারণ হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগে গ্রুপিংকেই দায়ী করছেন তারা। দলীয় এবং সাধারণ ভোটাররা বলছেন বানারীপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের ভোট বেশী হলেও তা দলীয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে। নিজেদের মধ্যে দলাদলির সুযোগ বিএনপি’র প্রার্থী নিতে পারেন বলে শঙ্কা করছেন অনেকেই।
এদিকে, ‘বানারীপাড়া পৌরসভার ভোট নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে অনেকটা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেননা শুরু থেকে বানারীপাড়ায় ইভিএম-এ ভোট হওয়ার কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ কারণে ১৪ ফেব্রুয়ারি বানারীপাড়া পৌরসভায় ভোট হবে ব্যালট পেপারে। ফলে ভোটে কারচুপি হতে পারে বলে ধারণা অনেক প্রার্থীর।

 

তবে পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও বরিশাল জেলা’র অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সোহেল সামাদ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী দুটি পৌরসভায় সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোট হবে। সেভাবেই আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কোস্টগার্ড এবং বিজিবি মোতায়েন হবে।
ভোট কেন্দ্র প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচনের আগের দিন থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ভোট নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন এড়াতে নির্বাচনের দিন সকালে কেন্দ্রে পাঠানো হবে ব্যালট পেপার। তাছাড়া ইভিএম বিষয়ে ভোটারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাই ভোট সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ না হওয়ার কোন কারণ নেই বলে জানান তিনি।