মুলাদী-বানারীপাড়া পৌরসভার নির্বাচন কাল : প্রস্তুতি সম্পন্ন

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি দেশের ৫৫টি পৌরসভার সাথে এক যোগে বরিশালের মুলাদী ও বানারীপাড়া পৌরসভার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে এ দুটি পৌরসভায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই নির্বাচনী এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর পাশাপাশি কোস্টগার্ড ও বিজিবি মোতায়েন হয়েছে। এদিকে, শেষ মুহূর্তে বিজয় নিশ্চিত হতে ভোটের হিসাব-নিকাশ কসছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলীয় এবং বিদ্রোহী প্রার্থীরা নিজেদের পক্ষে বিজয় নিশ্চিত করতে নানা কৌশল নিয়েছেন। যদিও দুটি পৌরসভায় এবারও যে কোন মূল্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বিজয়ী হবেন বলে ধরে নিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।

 

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে আছেন মহা টেনশনে। সরেজমিনে জানাগেছে, ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার ভোটারের মুলাদী পৌরসভায় এবার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট চারজন প্রার্থী। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান মেয়র শফিকউজ্জামান রুবেল। এছাড়া বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন অধ্যাপক মো. আল মামুন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মঞ্জুরুল আলম। তাদের পাশাপাশি মোবাইল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা শ্রমিকলীগের বহিষ্কৃত নেতা দীদারুল আহসান খান। অপরদিকে, ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সাড়ে ৯ হাজার ভোটারের বানারীপাড়া পৌরসভায় নৌকার মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট সুভাস চন্দ্র শীল। বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিয়াজ মৃধা।

 

এছাড়া পৌরসভাটিতে নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে টিকে আছেন সদ্য বহিষ্কৃত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক মিন্টু। এদিকে, ‘দুটি পৌরসভায় এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের। এ কারণে দুই পৌরসভায় দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করা দুই বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তাদের অনুসারী নেতাদের বহিষ্কারও করেছে আওয়ামী লীগ। এর পরেও নির্বাচনী লড়াইতে টিকে আছেন প্রার্থী এবং তাদের অনুসারীরা।

 

স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন, মুলাদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের থেকে বিএনপি’র ভোট বেশী। আবার বানারীপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের ভোট বেশী। মুলাদীতে দলীয় কোন্দলের কারণে আওয়ামী লীগের ভোট চলে যাবে নৌকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে। সেই সুযোগে সুষ্ঠু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় অনেকটাই সুনিশ্চিত বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা।

 

অপরদিকে, বানারীপাড়ার ভোটাররা দাবি করেছেন, ‘আওয়ামী লীগ থেকে যাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তিনি ক্লিন ইমেজের লোক। এর পরেও তার বিজয়ের পথের কাঁটা নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। এ কারণে ওই প্রার্থীকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নিয়ে আসতে দফায় দফায় বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

মুলাদী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দীদারুল আহসান খান বলেন, ‘জনসমর্থনের দিক থেকে আমার মোবাইল প্রতীক এগিয়ে রয়েছে। তাই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন। এরই মধ্যে তার লোকজন সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
এই প্রার্থীর অভিযোগ আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে অবৈধভাবে নির্বাচিত করতে পৌরসভায় বহিরাগত লোক আনা হয়েছে। তারা বিভিন্ন লোকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। ভোটের দিন কেন্দ্রে তারা প্রভাব বিস্তার করের আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ আকারে জানানো হয়েছে বলেও দাবি তার।
অপরদিকে, বানারীপাড়া পৌরসভার বিএনপি দলীয় প্রার্থী রিয়াজ মৃধা বলেন, ‘এ পৌরসভায় সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কেননা ইতিপূর্বে পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের দু’দিন আগে রহস্যজনক কারণে নির্বাচন কমিশন ইভিএম’র সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে পৌরসভায় ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ করা হবে।

 

দুই পৌরসভায় বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাবি, ভোট সুষ্ঠু হলে বিজয় তাদের পক্ষেই থাকবে। তাছাড়া ভোটাররা ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জামানতও হারাতে পারেন বলে দাবি বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের। তাই দুটি পৌরসভায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট উৎসবে প্রশাসনের সহযোগিতাও চান তারা।

 

নির্বাচন প্রসঙ্গে পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও বরিশাল জেলার অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সোহেল সামাদ বলেন, ‘আমরা আশাবাদী দুটি পৌরসভায় সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোট হবে। সেভাবেই আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কোস্টগার্ড এবং বিজিবি মোতায়েন হবে।
তিনি বলেন, ‘ভোট কেন্দ্র প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচনের আগের দিন থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভোট নিয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন এড়াতে নির্বাচনের দিন সকালে কেন্দ্রে পাঠানো হবে ব্যালট পেপার। আর ইভিএম বিষয়ে ভোটারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাই ভোট সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ না হওয়ার কোন কারণ নেই বলে জানান তিনি।