মুলাদী-বানারীপাড়া-কলাপাড়া পৌরসভায় আবারো নৌকার জয়

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১

বানারীপাড়ায় দুই প্রার্থীর ভোট এবং মুলাদীতে একজনের ফলাফল বর্জন

খান রুবেল ॥ বরিশালের মুলাদী-বানারীপাড়া এবং কলাপাড়া পৌরসভায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে তিনটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বিজয় হয়েছে। রবিবার রাতে ভোট গণনা শেষে স্ব স্ব পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসাররা বেসরকারিভাবে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে মুলাদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শফিক উজ্জামান রুবেল তৃতীয় বার এবং বানারীপাড়ায় অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কলাপাড়া পৌরসভায় বিপুল চন্দ্র হালদার দ্বিতীয় বারের মতো মেয়ার নির্বাচিত হয়েছেন।

 

রবিবার রাতে ভোট গণনা শেষে মুলাদী-বানারীপাড়া ও কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ওই তিন প্রার্থীকে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করেন। সাথে সাথে বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। মুলাদী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. সোহেল সামাদ জানান, ‘এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শফিক উজ্জামান রুবেল ৭ হাজার ৫৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

 

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দীদারুল আহসান খান মোবাইল প্রতীক নিয়ে দুই হাজার ৬৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৯৪৯ ভোট পেয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মুঞ্জুরুল ইসলাম। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৪৯২ ভোট পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. আল মামুন।

 

যদিও ফলাফল প্রত্যাখান করে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মুলাদী পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আল মামুন বলেন, ‘নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে হয়নি। নির্বাচন কমিশনের নীতিমালার দুর্বলতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা ও পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের কারণে ভোটারগণ নিজেদের ইচ্ছেমত ভোট দিতে পারেন নি।

 

অপরদিকে, ‘বানারীপাড়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা নূরে আলম জানিয়েছেন, ‘বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সুভাষ চন্দ্র শীল পাঁচ হাজার ৪২৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জিয়াউল হক মিন্টু নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৬৯৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া বিএনপি মনোনীত মো. রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৬৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

 

এদিকে, ‘বানারীপাড়া পৌরসভার ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হক মিন্টু ও বিএনপি’র প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ। তারা অভিযোগ করেন ভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ না হওয়ার পাশাপাশি ভোট গ্রহণে ব্যাপক কারচুপি হওয়ায় তারা এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘রবিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দুটি পৌরসভায় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মুলাদী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৬১ জন এবং নারীপাড়ায় ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ১২৭ জন।

 

এ সংখ্যক ভোটারের অনূকুলে মুলাদী পৌরসভায় মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাছাড়া বানারীপাড়ায় মেয়র পদে ৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এছাড়া মুলাদী পৌরসভায় মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২২ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের একজন করে এবং আওমীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী একজন।

 

অপরদিকে, ‘পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিপুল চন্দ্র হালদার ৩ হাজার ৩৫৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জগ প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী দিদার উদ্দিন আহমেদ মাসুম পেয়েছেন ৩ হাজার ২৩৫ ভোট।
এছাড়া বিএনপি মনোনীত হাজী হুমায়ন শিকদার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক হাজার ৬০১ ভোট এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সেলিম মিয়া হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ৬৬৯ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন।

 

নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘কলাপাড়া পৌরসভায় ১২ হাজার ৮৯১ জন ভোটারের বিপরীতে চারজন মেয়র, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৭ জন এবং সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।