মুলাদীতে নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন : হুমকিতে সহস্রাধিক পরিবার

প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২১

কে.এম মোশাররফ হোসেন, মুলাদী প্রতিনিধি ॥ মুলাদীতে অবাধে চলছে জয়ন্তী ও আড়িয়ালখাঁ নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন। ফলে অব্যাহত নদী ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সহস্রাধিক পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা একাধিকবার অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বালু দস্যুরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বালু উত্তোলনের পাশাপাশি ফসলি জমির শীর্ষ মাটি নিয়ে যাচ্ছে ইট ভাটায়। ফসলি জমির পলিমাটি ইট বানানোর কাজে নিয়ে যাওয়ায় মাটির উর্বরতা বিনষ্ট হচ্ছে।

 

জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সাধারণ মানুষ নদী ভাঙন রোধ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা এবং ফসলি জমির শীর্ষ মাটি কাটা বন্ধের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি মুলাদী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী মাইনুল আহসান সবুজ, চরকালেখান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী মো. মোহসীন উদ্দীন খানের সুপারিশসহ চরকালেখান ইউপি সদস্য আবু ছালে পল্লব সিকদারসহ দের শতাধিক মানুষ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানান। জানাগেছে, উপজেলার জয়ন্তী ও আড়িয়ালখা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু দস্যুরা দিন রাত বালু উত্তোলন করছে।

 

অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করায় শুষ্ক মৌসুমেও উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের গলইভাঙ্গা নতুন হাট, নমরহাট, পশ্চিম তেরচর, পশ্চিম চরকালেখান, নন্দীরবাজার, নবাবের হাট লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে চরলক্ষ্মীপুর ফাজিল মাদরাসা, চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, তেরচর ভাঙ্গারমোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাট বাজার। চরকালেখান ইউপি চেয়ারম্যান হাজ্বী মো. মোহসীন উদ্দীন খান জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে কতিপয় বালু ব্যবসায়ী লাভবান হচ্ছে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাস জানান, ২/১ দিনের মধ্যে নদীতে অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।