মুলাদীতে নদীর পানি বৃদ্ধি ও প্রবল বর্ষণে ভেসে গেছে ছয় সহস্রাধিক মাছের ঘের

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২০

কে.এম মোশাররফ হোসেন, মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি ॥

মুলাদীতে নদীর পানি বৃদ্ধি ও টানা বর্ষণে ভেসে গেছে ছয় সহস্রাধিক মাছের ঘের। এতে উপজেলার ঘের মালিকসহ প্রায় দশ সহস্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবল বর্ষণ এবং জয়ন্তী, আড়িয়ালখাঁ ও নয়াভাঙ্গনী নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাছের ঘের ভেসে যায়।

এছাড়া চরাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। সফিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী জানান, নদী পানি বৃদ্ধি ও বর্ষণের ফলে সফিপুর ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া ইউনিয়নের সকল মাছের খামার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে এবং পানিতে মাছ ভেসে গেছে। বাটামারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সিকদার জানান, আড়িয়ালখাঁ ও জয়ন্তী নদীর পানি বৃদ্ধিতে তার ইউনিয়নের ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইউনিয়নের ঘুলিঘাট থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মহসীন রেজার বাড়ি পর্যন্ত ভাঙনে ইউনিয়নের মানচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে। বাটামারা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদী ভাঙনের মুখে রয়েছে। কাজিরচর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মন্টু বিশ্বাস জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে তাঁর ইউনিয়নের চরকমিশনার ফাইভস্টার মৎস্য খামারের প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

এছাড়া ওই ইউনিয়নের আরও এক হাজার মাছের খামার প্লাবিত হয়ে মাছ ভেসে গেছে। মুলাদী পৌর সদরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শুকুর আহমেদ খানের মাছের খামারসহ প্রায় সকল মৎস্য ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। ওইসব খামারে কাজ করা খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। উপজেলা মৎস্য অফিসার সুব্রত গোস্বামী জানান, মুলাদী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারীদের তালিকা হাতে পেয়েছি। বাকী ৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার তালিকা হাতে পেলে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়সহ ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য খামারীদের সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা প্রেরণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুভ্রা দাস জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে উপজেলার মৎস্য চাষীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য উপজেলা মৎস্য অফিসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Sharing is caring!