মুলাদীতে চোর সন্দেহে মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে হত্যার পর গুমের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

কে.এম মোশাররফ হোসেন, মুলাদী প্রতিনিধি ॥ মুলাদীতে চোর সন্দেহে দুই সন্তানের জনক মনির হোসেন (৪০) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শ্বশুর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৬ দিন পর মনির হোসেনের হাত-পা বাধা আহত ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে তার স্ত্রী পলি আক্তার ও স্বজনরা এ অভিযোগ করেন। মনির হোসেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া গ্রামের মৃত নূরমোহাম্মাদের ছেলে। ২০০১ সালে তার সাথে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামের মৃত খলিল বেপারীর মেয়ে পলি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মনির শ্বশুর বাড়িতেই থাকতেন।

 

পলি আক্তার জানান, ৭/৮ বছর আগে তার স্বামী মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে মাঝে মধ্যে সুস্থ থাকতেন। গত ১২ জানুয়ারি মনির হোসেন বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে স্বামীকে না পেয়ে পলি আক্তার ১৬ জানুয়ারি মুলাদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে মনির হোসেনের হাত-পা বাধা আহত ছবিটি তারা দেখেতে পেয়ে থানায় অবহিত করেন এবং এলাকায় খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেন।

 

পলি আক্তারের ভাই ফজলুল হক জানান, ফেসবুকে ছবি দেখে নাজিরপুর ইউনিয়নের বানীমর্দন খেয়াঘাট এলাকায় গিয়ে জানাতে পারেন গত ১২ জানুয়ারি মোতালেব মাতুব্বরের ছেলে আবুল মাতুব্বরের বাড়িতে মনির হোসেনকে চোর সন্দেহে হাত-পা বেধে নির্যাতন করা হয়েছে। তার ধারণা নির্যাতনে মনির হোসেনের মৃত্যু হলে নির্যাতনকারীরা তাকে গুম করে ফেলেছে। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীও জানান তিনি।

 

নাজিরপুর ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান জানান, ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ১২ জানুয়ারি রাতে মনির হোসেনকে আটক করা হয়েছিলো। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে ওই রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ ফয়েজ উদ্দীন মৃধা জানান, গত ১২ জানুয়ারি পলি আক্তার তার স্বামীর নিখোঁজের বিষয়ে ডায়েরি করেছিলেন। মনির হোসেনের হাত-পা বাধা ছবি ফেসবুকে ভাইরালের বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য মুলাদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মজিবুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।