মুলাদীতে কাজিরচর ইউনিয়ন আ’লীগে অনুপ্রবেশের অভিযোগ : তৃণমূল নেতাকর্মীদের ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০
৭০ বছরে পদর্পণ করলো আওয়ামী লীগ

কে.এম মোশাররফ হোসেন, মুলাদী প্রতিনিধি ::

মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন বিএনপি সমর্থক এম এ কাইউম হাওলাদার আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের স্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন পরবর্তী অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব তারিকুল হাসান খান মিঠু বিএনপি সমর্থক এমএ কাইউম হাওলাদারকে কাজিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে ঘোষণা করলে নেতাকর্মীরা এর প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ধরনের সুযোগ সন্ধানীদের দলে প্রবেশের সুযোগ দিলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীরা। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিক উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রতিবাদ জানিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান।

কাজিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মনিরুজ্জামান মনির জানান, ২০০৩ সালে এম এ কাই্উম হাওলাদারের পিতা মরহুম মাস্টার আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম হাওলাদার তৎকালীন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর সমর্থন নিয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপির সমর্থন নিয়ে আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম হাওলাদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলাসহ বিভিন্ন জুলুম নির্যাতন চালিয়েছেন। সেই নির্যাতনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান পুত্র এম এ কাইউম হাওলাদার।

২০০৩ সালে এম এ কাইউম হাওলাদারের সহযোগী জনৈক বিএনপি নেতা এনামুল হক রিপন বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৩৩জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করেছেন। যা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। সেই বিএনপি সমর্থক এম এ কাইউম হাওলাদার আওয়ামী লীগের প্রবেশ করলে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

কাজিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ছিদ্দিকুর রহমান খান জানান, বিএনপি সমর্থক এম এ কাইউম হাওলাদার চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। হামলা-মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছেন। তিনিই এখন আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে ব্যানার পোস্টার দিয়ে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করছেন। এসব অনুপ্রবেশকারীরা দলের নাম ভাঙিয়ে পুনরায় নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে পারেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্রও করতে পারেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক এনামুল হক মন্টু জানান, কাজিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বর্তমানে অনেক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু বিএনপি সমর্থক এম এ কাই্উম হাওলাদারের মতো লোক দলে প্রবেশ করলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হবে। এতে দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী জানান, এম এ কাইউম হাওলাদারকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে ঘোষণা করা উচিত হয়নি। আমি এর পক্ষপাতি নই। অন্য কোনো রাজনৈতিক দল থেকে যে কেউ আওয়ামী লীগে যোগদান করলে বাধা দেওয়ার কিছু নেই। তবে দলে সদ্য যোগদানকারী কাউকে দলের কোনো পদ-পদবীতে আসীন করে কিংবা মনোনয়ন দিয়ে নেতা বানানো যাবে না।

Sharing is caring!