মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতি করে ছেলেকে ব্যাংকে চাকরি দেয়ার অভিযোগ


Deprecated: get_the_author_ID is deprecated since version 2.8.0! Use get_the_author_meta('ID') instead. in /home/ajkerbarta/public_html/wp-includes/functions.php on line 4861
প্রকাশিত: ১২:০০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২০

মো. জিয়াউদ্দিন বাবু ॥

মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতি করে ছেলেকে ব্যাংকে চাকরি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মনির খলিফা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মনির খলিফা নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডস্থ ধানগবেষণা রোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিজেও একটি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত স্টাফ। জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেয়া ওই ব্যক্তির ছেলে সোহেল কবির বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের বাকেরগঞ্জ শাখায় কর্মরত আছেন। ঢাকায় চাকরিকালীন মনির খলিফা তার ছেলেকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ছেলেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে তিনি ভুয়া নন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মনির খলিফা। তবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার সিরিয়াল নম্বর জানতে চাইলে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। পরে অবশ্য মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার সিরিয়াল নম্বর ৫৫৪ বলে দাবি করেন।

তবে বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ‘বরিশালে মুক্তিযোদ্ধাদের সকল তালিকা যাচাই বাছাই করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও কোন মনির খলিফার নাম পাওয়া যায়নি। আর মনির খলিফা ৫৫৪ নম্বর সিরিয়ালে তার নাম রয়েছে বলে দাবি করলেও সেখানে অন্য মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মনির খলিফা নামের ওই ব্যক্তি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।
এদিকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দেয়া মনির খলিফাকে তার মুক্তিযোদ্ধা দাবি করার বিষয়ে মুঠোফোনে প্রশ্ন করেন খোদ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মানিক হাওলাদার। কিন্তু তার এ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ হন মনির খলিফা।

অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জালিয়াতির বিষয়টি ধরে ফেলায় নিজেকে রক্ষায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন মনির খলিফা। এ বিষয়ে নিয়ে গত ২০ আগস্ট পুনরায় মনির খলিফার সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে তিনি নিজেকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং তার কাছে সনদ রয়েছে বলেও দাবি করেন। তবে সিরিয়াল নম্বর মনে নেই বলে দাবিও করে বলেন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলমগীর হোসেন বিষয়টি সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন। তিনি আমার কমান্ডার।

নিজের ছেলে সোহেল কবিরকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাইয়ে দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে মনির খলিফা বলেন, ‘আমি যে মুক্তিযোদ্ধা সে প্রমাণ আমার সংরক্ষণে রয়েছে। তবে কোন সেক্টরে এবং কার অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন সে বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এদিকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলমগীর হোসেনকে মনির খলিফা’র মুক্তিযোদ্ধার বৈধতা সম্পর্কে মুঠোফোনে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘মনির খলিফা তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে দুই মেয়েকে চাকরি দিয়েছেন। এর মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং অপরজন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে চাকরি করেন।

অপরদিকে জালিয়াতি ছাড়াও, মনির খলিফার বিরুদ্ধে দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ‘সম্প্রতি স্থানীয় আব্দুল হালিম খলিফা নামের এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। ১১ মে দায়েরকৃত ওই মামলার নম্বর ১১। মনির খলিফা ছাড়াও সাইফুল খলিফা, ঝন্টু খলিফা, সোহেল খলিফা, সোহাগ খলিফা, আলম খলিফাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।