মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার টাকায় ভাগ বসানোর পাঁয়তারা

প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥

বরিশালে নতুন গেজেট ভুক্ত ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা নেয়া হবে বলে অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ে বিলাসী এসি ও সোফা কেনার কথা বলে উত্তোলিত চাঁদার টাকা মূলত গুটি কতক নেতার পকেটে যাবে বলেও গোপন সংবাদ পাওয়া গেছে। তবে বরিশাল সদর উপজেলার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা নেতার বিরুদ্ধে ওঠা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা।

জানা গেছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয় দুই দফা যাচাই-বাছাই শেষে বরিশালের ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত করে। গত ২০ মে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রাণালয় উক্ত ৪৭ জনার নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। এসব মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ৫০ বছর পর কয়েকটি স্তরে যাচাই-বাছাই শেষে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

তবে নতুন গেজেটভূক্ত ওই মুক্তিযোদ্ধারা এখনও সম্মানি ভাতা পাননি। তাদের সম্মানি ভাতা দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই তাদের সন্মানি দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সুত্রে জানা গেছে। তাদের সম্মানি পাওয়ার খবরে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কয়েকজন নেতা ওই টাকায় ভাগ বসানোর পায়তারা শুরু করেছেন।

সুত্র জানায়, বরিশাল সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কয়েকজন নেতা রোববাব বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ছিলেন এমন একজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, সদ্য গেজেটে নাম আসা ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে সদর উপজেলা সংসদ কার্যালয়ের এসি ও সোফা এবং নানা বিলাসীতার সামগ্রী কেনার জন্য ৫ হাজার টাকা করে অনুদান নেয়া হবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে ওই দিনই সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের কমান্ডারদের মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হয়। তাদেরকে উপজেলা নেতারা বলেছেন, গেজেটে নাম আসা নতুন মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে। তাই তাদেরকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর বগুরা রোড মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় আসতে বলা হয়েছে।

তবে অনুদানের বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। কথিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৌশলে নতুন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ৫ হাজার টাকা করে চাওয়া হবে। কেউ দিতে না চাইলে তার ভাতা আটকে দেয়ার ভয় দেখানো হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক এক সহকারী কমান্ডার বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের টাকা দিয়ে কেন বিলাস সামগ্রী কিনতে হবে? সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এরকম প্রস্তাব দেয়া হলে তিনি বিরোধীতা করবেন।

অভিযোগ আছে, বরিশাল সদর উপজেলায় নতুন মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে নগরের আমানতগঞ্জে। কিছুদিন পরেই তা হস্তান্তর করা হবে। তারপরও পুরানো কার্যালয়ে বিলাসী সামগ্রী কেনার নামে ওই টাকা নিয়ে কয়েকজন নেতা পকেটস্থ করার পায়তারা করছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশাল সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আনছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, সদর উপজেলা সংসদ কার্যালয়টি জরাজীর্ন। সেটি সংস্কার করতে নতুন গেজেটভূক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে আলাপ আলোচনা করে অনুদান নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে টাকা নেয়া হবেনা।

Sharing is caring!