মীরগঞ্জে নদী ভাঙনে মসজিদ-বসতভিটা-রাস্তা বিলীন সাঁকো তৈরী করে চলাচল!

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি ::

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জে আবারো হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙন।

কোন কিছুতেই যেন থামছে না সর্বনাশা আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙন। নদীবেষ্টিত বাবুগঞ্জ উপজেলার চারিদিকে শুধু ভাঙনের শব্দ। গত ৪৮ ঘণ্টায় ৩টি বসতবাড়ি, মসজিদ, রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার সময় হঠাৎ করে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের মীরগঞ্জ এলাকার দক্ষিণ পাশে খানকায়ে সুলতানিয়া নামক একটি মসজিদ, ৩ টি বসতঘর, বিদ্যুতের খুঁটি, মূল্যবান গাছ, বেশ কিছু জায়গাসহ একাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

গত দুই সপ্তাহ পূর্বে একটি ইটের রাস্তা ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো শতাধিক বাড়ীঘর। ইতি মধ্যে আশ-পাশের বাড়ী- ঘরের মালা-মালসহ ঘর সরিয়ে অন্যত্র নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা।

হঠাৎ করে নদী ভাঙন দেখা দেয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বরিশাল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মীরগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা মহামারীর চেয়ে নদীভাঙনের আতঙ্কে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ভাঙন রোধে এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় লঞ্চঘাটের সড়কের সাথে রাজগুরু ও নতুন চর দুই গ্রামের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় অনেক দিন আগে। লঞ্চঘাটের সাথে সংযোগ সড়কের কালভার্ট ভেঙে পড়ায় দুই গ্রামের লোকজন ১কিলোমিটার এলাকা ঘুরে লঞ্চঘাটে আসতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ১৫ দিন আগে কালর্ভাটটি ধসে পড়ে যায়।

স্থানীয় আ’লীগ নেতা রসুল খান জানান, আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে লঞ্চঘাটে আসার কালভার্ট ধসে পড়েছে। কালভার্টের দুই প্রান্তে ও মাঝে যে পিলার থাকে, তীব্র স্রোতের কারণে তার নিচ থেকে মাটি সরে গেছে। তাই ভার ধরে রাখতে পারেনি এটি। পাশেই সাঁকো তৈরী করে মানুষ চলাচল করে।

স্থানীয় এলাকার ইউপি সদস্য জামাল হোসেন পুতুল জানান, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার একটি মসজিদ, বসতবাড়ি ও জনসাধারণের চলাচলের জন্য রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চলতি মৌসুমে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে। তখন অনেক এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, নদী থেকে আসা পানির স্রোতের কারণেই কালভার্ট ধসে পড়ে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে মানুষের চলাচলের জন্য নতুন করে বিকল্প অস্থায়ী সাঁকোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী শুকনো মৌসুমে বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাটের সাথে আঞ্চলিক সড়কে নতুন করে কালভার্ট ও রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

Sharing is caring!