মিয়ানমার মনে করে চীন-ভারত-জাপান তার পকেটে রয়েছে

প্রকাশিত: ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৯

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার মনে করে চীন, ভারত ও জাপান তার পকেটে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিজের যৌথ উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অধ্যাপক বলেন, ‘মিয়ানমার মনে করে চীন, ভারত ও জাপান তার পকেটে রয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ আর কী করতে পারবে?তিনি বলেন, ‘তাই এ তিনটি দেশের সঙ্গে সৃজনশীলভাবে যুক্ত হতে হবে। দেশগুলোকে বোঝাতে হবে, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে তাদেরও ক্ষতি হবে।২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট : টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রবন্ধসমূহের সংকলন ওই বইটি। ‘দি রোহিঙ্গা রিফিউজি ক্রাইসিস : টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল সলিউশন’ বইটি সম্পাদনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার মতো বহুমাত্রিক সমস্যা সমাধানে পাঁচটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। প্রথমত, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানো। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর যেসব সদস্য ওই গণহত্যায় জড়িত ছিল তাদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবা। যেসব বাণিজ্যিক সংস্থা মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তৃতীয়ত, মিয়ানমারের নাগরিক সমাজের সঙ্গে যুক্ততা। চতুর্থত, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তথ্য সরবরাহ। এ জন্য তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি বার্মিজ ও রোহিঙ্গাদের ভাষায় তথ্য সরবরাহ করতে হবে। পঞ্চমত, ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা। মিয়ানমার মনে করছে চীন, ভারত ও জাপান তাদের পকেটে আছে। তবে মনে রাখতে হবে যে, এই তিনটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেরও সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে কাজ করতে হবে।

আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিজের নির্বাহী পরিচালক এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের চেয়ারপারসন মঞ্জুর হাসান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ড. সৈয়দ রিফাত আহমেদ, কানাডার হাইকমিশনার বেনোয়া প্রিফনটেইন প্রমুখ।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, মিয়ানমার সরকার নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন না আনলে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। এ জন্য রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। তাই এ সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশ নয় মিয়ানমারের ওপর নজর দিতে হবে। কারণ রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে মিয়ানমার।