মির্জাগঞ্জে পরকীয়া ও যৌতুকের দাবিতে ঘরে আটকে স্ত্রীকে নির্যাতন

প্রকাশিত: ১০:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মির্জাগঞ্জ থানার ময়দা গ্রামে পরকীয়া ও যৌতুকের দাবিতে ঘরে আটকে স্ত্রী রুবিনা আক্তার কে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার রুবিনা ওই এলাকার হোসেন ফকিরের ছেলে শামীম মিয়া চন্নুর স্ত্রী।
বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত রুবিনা জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর পূর্বে চন্নুর সাথে পারিবারিকভবে বিয়ে হয় হিজলা থানার টেকের বাজার গ্রামের হারুন খানের মেয়ে রুবিনা আক্তারের।
বিয়ের কিছুদিন পর থেকে স্বামী চন্নু ও তার পরিবারের সহযোগীরা রুবিনার কাছে যৌতুক দাবি করে। যৌতুক দাবিতে প্রায় সময় রুবিনার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন। বিয়ের তিন বছর পর তার একটি সন্তান হয়। সন্তানের কথা চিন্তা করে রুবিনা শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করে থাকে।

কিছুদিন পরে স্বামী চন্নু চাকুরী করতে প্রবাসে যায়। প্রবাসে যাওয়ার পর কয়েক মাস স্ত্রী রুবিনার সাথে যোগাযোগ থাকলেও আস্তে আস্তে কমিয়ে দেয়। স্বামী বাড়িতে আসলে তার গোমর ফাঁস হয়ে যায়। পরে জানতে পারে স্বামী চন্নু কুমিল্লার একটি মেয়ের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে আসছে। প্রবাসে থাকা কালিন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের পরিচয়।

পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামীকে একাধিকবার বুঝানোর চেষ্টা করেন স্ত্রী রুবিনা। কিন্তু কোন ভাবেই স্বামী তার পরকীয়া ছাড়তে পারেনি।
এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
সন্তানের কথা চিন্তা করে উভয় পক্ষের পরিবার বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা চালালেও স্বামীর পরকীয়া চালিয়ে যাওয়ার কারণে বারবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফাটল শুরু হয়।
এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করলে চন্নু ও তার শ্বশুর হোসেন ফকির রুবিনার কাছে মোটা অংকের যৌতুক দাবি করে।
এভাবে যৌতুকের টাকা চেয়ে রুবিনার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

রুবিনা তার শ্বশুর হারুন ফকির এবং শাশুড়ি ভানেসা বিবিকে শুরু থেকে জানিয়ে আসলেও তারাও তার ছেলের পক্ষ নিয়ে রুবিনার উপর নির্যাতন চালায়।
গত বৃহস্পতিবার পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় পরে চন্নু স্ত্রী রুবিনার কাছে যৌতুক চাওয়া হলে তা দিতে অস্বীকার করেন স্ত্রী।
এরই জের ধরে একপর্যায়ে সকাল দশটায় ঘরের দরজা রুম আটকে হত্যার চেষ্টায় রুবিনার উপর রড দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে।

নির্যাতনের শিকার রুবিনা আরো জানান, রডের আঘাতে রুবিনার সারা শরীরে কালো দাগ পড়ে গেছে। আঘাতের পর রুবিনা কে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে স্বামী চন্নু।

থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা রুবিনাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক মির্জাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে রুবিনার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

শেবাচিমের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রুবিনার শরীরে ব্যাপক আঘাতে কালো দাগ পড়ে গেছে। তবে সুস্থ হতে সময় লাগবে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে স্বজনরা জানান।